রাজ্যের যে সব জেলা থেকে ভিন রাজ্যে কাজে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকরা অত্যাচারের মুখে পড়েছে, বা মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম মালদহ। যতবার তাঁরা অত্যাচারিত হন, ততবার বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস তাঁদের পাশে দাঁড়ায়, এমনকি মালদহে (Maldah) সাংসদের আসনে থাকা কংগ্রেসকেও (Congress) দেখা যায় না। মালদহে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে সেই পরিযায়ী শ্রমিক (migrant labour) পরিবারগুলির সামনে কংগ্রেসের বাস্তব ছবিটা তুলে ধরলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

বিজেপি রাজ্যে পরিযায়ী বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের ঘটনা নতুন নয়। দুদিন আগে রাজস্থানে খুন করা হয়েছে মালদহের শ্রমিক শেখ সাহানকে। হরিশচন্দ্রপুরের বাসিন্দা শেখ সাহান ভোটের জন্য বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর। বুধবার সন্ধ্যায় ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য ভাড়া বাড়ি থেকে বেরোন। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজস্থানের ওই ভাড়া বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে এক মন্দিরের কাছে বস্তাবন্দি রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে সেখানকার পুলিশ। মানিকচক (Manikchak) থেকে সেই মৃত শ্রমিকের প্রসঙ্গ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে। তিনি উল্লেখ করেন, পরশুদিনও রাজস্থানে একটি মালদহের ছেলেকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে।
নির্বাচনের আগে ফের একবার এই পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে রাজনীতি বিজেপি, দাবি তৃণমূল নেত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, যে পরিযায়ী শ্রমিকরা ভোটের জন্য আসতে চাইছিলতাঁদের আসতে দেওয়া হচ্ছে না। বাস উত্তরপ্রদেশে আটকে দেওয়া হচ্ছে। সেখানেই তিনি অনুরোধ করেন, করোনা, ঈদ বা দুর্গাপুজোর সময় তাঁরা যেভাবে আসেন তাঁরা যেন সেভাবেই নিজেদের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য চলে আসনে নিজের রাজ্য বাংলায়।

আরও পড়ুন : মালদহে মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টারের সামনে রহস্যময় ড্রোন! পুলিশ চিহ্নিত করুন: মমতা

আদতে এখন আর এই অত্যাচার যে শুধু বিজেপি রাজ্যে আটকে নেই, মালতিপুরের সভা থেকে তা নিয়ে তোপ দাগেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি কংগ্রেস শাসিত কর্ণাটকের উদাহরণ তুলে তাঁর দাবি, শ্রমিকদের যখন মারা হয় দেহ আমরা নিয়ে আসি। তখন তাঁরা কোথায় থাকে? পরিবারগুলোকে আমরা রক্ষা করি। রাজস্থানেও অত্যাচার। বেঙ্গালুরুতে কংগ্রেস (Congress) রাজ্যে অনেক পরিযায়ী শ্রমিককে (Migrant labour) বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য অত্যাচার। তামিলনাড়ুতেও স্ট্যালিনদের সঙ্গে কংগ্রেস আছে। সেখানেও অত্যাচার করেছে। তখন আপনারা কোথায় ছিলেন? একটি কথাও বলেননি। পরিবারের পাশে দাঁড়াননি।

–

–

–
–
–
