বাংলার কৃষিজীবী মানুষের জন্য যেখানে প্রতিটি ধাপে একের পর এক সহায়ক প্রকল্প ঘোষণা করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেখানে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বরাবর জনবিরোধী পদক্ষেপই নিয়ে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister of India) যখন বাংলায় এসে ভুরি ভুরি জনকল্য়াণের আশ্বাস দিচ্ছেন, তখন কীভাবে কেন্দ্রের নীতির জন্য ক্ষতির মুখে বাংলার চাষিরা, পূর্ব বর্ধমানের রায়নার (Raina) সভা থেকে সেটাই তুলে ধরলেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।

পূর্ব বর্ধমান জেলা থেকে ধান চাষিরা জেলা তথা গোটা রাজ্যের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখেন। অথচ কেন্দ্রের নীতির জন্য ক্ষতির মুখে রায়নার গোবিন্দভোগ চাষিরা। সেই প্রসঙ্গ তুলে অভিষেকের তোপ, এই বিধানসভা কৃষি প্রধান এলাকা। অনেকেই গোবিন্দভোগ চালের চাষের সঙ্গে যুক্ত। কেন্দ্র সরকার গোবিন্দভোগ চালের রফতানি (export) বন্ধ করে দিয়েছে। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গোবিন্দভোগ চালের সঙ্গে জড়িত কৃষক ভাইরা। এভাবেই কেন্দ্রের কৃষক-বিরোধী নীতির পর্দাফাঁস করেছেন অভিষেক।

আদতে কেন্দ্রের এই নীতি কৃষক বিরোধী হওয়ার পাশাপাশি বাংলা বিরোধীও। যে চাষে বাংলার কৃষকরা লাভের মুখ দেখতে পারতেন, তাতেই কোপ কেন্দ্রের মোদি সরকারের। রায়নার কৃষকদের ক্ষতির কথা তুলে ধরে অভিষেকের দাবি, গোবিন্দ ভোগ চালের (Gobindo Bhog rice) বাজার একমাত্র কেরল ছাড়া সেরকম আর কোথাও নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে এই চালের চাহিদা ছিল। কিন্তু যেহেতু আন্তর্জাতিক স্তরে রফতানিতে (export) নিষেধাজ্ঞা জনবিরোধী মোদি সরকার জারি করেছে, তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।


ঠিক এর উল্টোদিকে বাংলার সরকার, যাঁরা প্রতি নিয়ত কৃষিক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়িয়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর কাজ করছে। কেন্দ্রের সরকারের সঙ্গে রাজ্যের সরকারের পার্থক্য তুলে ধরে অভিষেকের তথ্য পেশ, এখানে অনেক কৃষক ভাইরা আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো চাষের সঙ্গে যুক্ত। আপনাদের দীর্ঘদিনের দাবি এখানে একটা কোল্ডস্টোরেজ (coldstorage)mc তৈরি করা। আমাদের রাজ্য সরকার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যে বাজেট বিধানসভায় পেশ করেছে সেখানে বলা হয়েছে, বাংলা জুড়ে ৫০টার বেশি হিমঘর আমাদের সরকার করবে। তার মধ্যে একটা বড় স্টোরেজ এই রায়নার মাটিতে হবে, যাতে কৃষকদের কোনও অসুবিধা না হয়।

–

–

–

–
–

