দলবিরোধী কাজ করলে কোনও বড় নেতাকেই রেয়াত করা হয় না তৃণমূল কংগ্রেসে। যে নেতার কাজে অসম্মানিত হয় দল, তাঁদের প্রতিও প্রতিবার কড়া পদক্ষেপ নিতেই দেখা গিয়েছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে। ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলামের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হল না। দলের বিরুদ্ধে গিয়ে ফরাক্কা থেকে আবারও মনোনয়ন পেশ করেছেন মনিরুল (Manirul Islam)। তাঁকে প্রার্থী পদ প্রত্যাহারের (nomination withdraw) অনুরোধ যেমন করলেন দলনেত্রী, তেমনই সামসেরগঞ্জের সভা থেকে তাঁকে সাসপেন্ড (suspend) করার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রাখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন ফরাক্কার বিডিও অফিসে নজিরবিহীন হামলার ঘটনা ঘটেছিল। যেখানে অভিযুক্ত স্থানীয় বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। দলের তরফ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপও করা হয়েছিল। এই কেন্দ্রে এবার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছে আমিরুল ইসলামকে। এরপরেও মনিরুল ইসলাম জোর করে মনোনয়ন জমা দেওয়ায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের স্পষ্ট বার্তা, ফরাক্কায় আমরা তাঁকে টিকিট দিইনি। শুনছি তিনি নাকি দাঁড়িয়েছেন। তাঁকে আমি আবেদন করব তিনি দলের স্বার্থে প্রত্যাহার (withdraw) করবেন। আর যদি না করেন আমি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সাহেবকে বলে যাচ্ছি, উনি তাহলে তাঁকে দল থেকে তাঁকে সাসপেন্ড (suspend) করে দেবেন।

দলের সম্মানহানি করে যে পদক্ষেপ বিডিও অফিসে হামলা চালিয়ে নিয়েছিলেন মনিরুল, তার পরে ক্ষমাও চাইতে দেখা যায়নি তাঁকে। সঙ্গত কারণেই যে এবার আমিরুল ইসলামকে প্রার্থী করা হয়েছে, তা বুঝিয়ে দিয়ে তৃণমূল নেত্রীর দাবি, আমার আমিরুলকে (Amirul Islam) দরকার। যাঁরা দলে থেকে দলের বিরেধিতা করে টিকিট না পেলেই, টিকিট দিলে ভালো। তাহলে যে কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে, সবাই কি টিকিট পায়? যারা দলের সম্পদ, বুথে বসে। যাঁরা দলের সম্পদ এজেন্ট হয়ে বসে। যাঁরা দলের সম্পদ নেত্রীবৃন্দ সারাক্ষণ কাজ করে যায়। একটা আসনে তো একজনই টিকিট পাবে।

আরও পড়ুন : ভোটযুদ্ধে নজরে মালদহ, তৃণমূল সভানেত্রীর রোড-শো-এ ইংরেজবাজারে জনসমুদ্র

সামসেরগঞ্জের সভা থেকে একদিকে মনিরুল ইসলামকে যেমন বার্তা দেন তৃণমূল নেত্রী, সেই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেন তৃণমূলের নীতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় জানান, যে কাজ করবে সে টিকিট পাবে। যে মানুষের সঙ্গে থাকবে সে টিকিট পাবে। হ্যাঁ, একটা দুটো ক্ষেত্রে হয়তো বয়স ফ্যাক্টর হতে পারে। হয়তো চলতে পারছে না বা অন্য কোনও সমস্যা আছে। যাঁরা সম্মানের সঙ্গে দল করবে তাঁদের আমরা সসম্মানে সেই জায়গা ফিরিয়ে দেব। কিন্তু যাঁরা দলকে অসম্মান করব, তাঁদের ক্ষমা বা রেয়াত করা আমাদের কাজ নয়। তাহলে মানুষ আমাদের ক্ষমা করবে না। নির্বাচনটা রাজনৈতিক যুদ্ধ। এই যুদ্ধে আমি যদি যোদ্ধা হই, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা আমার সহযোদ্ধা।

–

–

–

–
–

