নির্বাচন পরিচালনায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিরপেক্ষতা নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছে বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এবার নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি ভি নাগরত্না (B. V. Nagarathna)। কমিশনের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের যোগাযোগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে নিরপেক্ষতার এই প্রশ্ন তুললেন তিনি। আরও দাবি করেন, এর ফলে গণতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

শনিবার পাটনায় চাণক্য ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটিতে একটি সেমিনারে অংশ নেন বিচারপতি। যার নাম ছিল ‘অধিকারের ঊর্ধ্বে সাংবিধান: কাঠামো কেন গুরুত্বপূর্ণ” (Constitutionalism beyond Rights: Why Structure Matters)। এই অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নাম না করেই তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। যদি নির্বাচন যাঁরা করাচ্ছেন, তাঁরা নির্বাচনের প্রার্থীদের উপর নির্ভর করেন, তবে কীভাবে নিরপেক্ষতা হবে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন, এটি এমন একটি সংস্থা যাঁরা বিচ্ছিন্নভাবে কর্মক্ষম, বিশেষজ্ঞ এবং এমন ক্ষেত্রগুলিতে নজরদারি করতে সক্ষম যেখানে রাজনৈতিক দলগুলি নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারে না। আরও পড়ুন: একদিনে এসআইআরের বলি ২: রিষড়ার পরে কালনায় মৃত্যু বৃদ্ধের

বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর নিয়ে বেশ কয়েকটি মামলা চলছে। তৃণমূলসহ একাধিক বিরোধী দল অভিযোগ করে এসআইআর করে স্বেচ্ছাচারী ভাবে ব্যাপক হারে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিচ্ছে কমিশন। যা গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার সমান। এই ধরনের বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি আলাপ আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের কথা বলেন। তাঁর কথায়, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির কাজ নিজেদের শক্তি দেখানো নয়। বরং নিরপেক্ষ থেকে গণতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা। আইনজ্ঞদের মতে, বিচারপতির এই মন্তব্য পরোক্ষে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে চলা বিতর্ককেই নতুন করে উসকে দিল।

–

–

–

–

–

–
–

