রাজনীতির ময়দানে ‘পাপ’ যে বাপকেও ছাড়ে না, শনিবার ভরদুপুরে খাস ভবানীপুরে তার প্রমাণ পেলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। বছর দুই আগে এক শিখ আইপিএস আধিকারিককে ‘খলিস্তানি’ বলে যে চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা, ভোটের মুখে সেই পুরনো কাঁটাতেই বিদ্ধ হলেন তিনি। চক্রবেড়িয়া এলাকায় ভোট প্রচারে বেরিয়ে শিখ সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের নজিরবিহীন বিক্ষোভের মুখে পড়ে রীতিমতো দিশেহারা হয়ে পড়লেন শুভেন্দু। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতার সমস্ত দম্ভ চূর্ণ হয়ে যায় এবং মেজাজ হারিয়ে শেষমেশ হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার বিকেলে, ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়া এলাকায়। অনুগামীদের নিয়ে ভোট ভিক্ষা করতে গিয়েই বাধার মুখে পড়েন শুভেন্দু। আচমকাই শিখ সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন মানুষ তাঁকে ঘিরে ধরেন। তাঁদের চোখেমুখে ছিল তীব্র ঘৃণা আর ক্ষোভ। বছর দু’য়েক আগে ধামাখালিতে কর্তব্যরত আইপিএস জশপ্রীত সিংয়ের পাগড়ি দেখে তাঁকে ‘খলিস্তানি’ তকমা দেওয়ার যে হীন মানসিকতা শুভেন্দু দেখিয়েছিলেন, আজ তারই জবাব চাইলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উত্তেজনার পারদ এতটাই চড়ে যে, মেজাজি শুভেন্দুকেও মুহূর্তের মধ্যে রক্ষণাত্মক হয়ে পড়তে দেখা যায়।

বিক্ষোভের মুখে পড়ে প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করার মরিয়া চেষ্টা করেন শুভেন্দু। বারবার দাবি করেন, তিনি এমন কোনও কুরুচিকর মন্তব্য করেননি। কিন্তু উত্তেজিত জনতা তাঁকে ছাড়তে নারাজ ছিলেন। বেগতিক বুঝে এক বিক্ষোভকারীকে জড়িয়ে ধরে শান্ত করার চেষ্টা করেন তিনি। এমনকি, দোর্দণ্ডপ্রতাপ বিরোধী দলনেতাকে হাতজোড় করে ‘ক্ষমা’ চাইতেও দেখা যায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভবানীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে শিখ ভোটব্যাঙ্ক হাতছাড়া হওয়ার ভয়েই আজ এভাবে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হলেন তিনি।

তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক শিক্ষা’ বলে কটাক্ষ করেছে। শাসকদলের স্পষ্ট কথা, জশপ্রীত সিংয়ের মতো একজন সৎ পুলিশ আধিকারিককে জাত তুলে আক্রমণ করার ফল আজ শুভেন্দুকে হাতেনাতে পেতে হলো। সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূল লিখেছে, কুৎসিত মন্তব্যের পর আর পালানোর পথ নেই। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে যে পার পাওয়া যায় না, ভবানীপুরের শিখ ভাইরা আজ তা বুঝিয়ে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন- তৃণমূলের নালিশের পরেই ব্যবস্থা! পানিহাটির অভিযুক্ত সেক্টর অফিসারকে শোকজ-অপসারণ কমিশনের

_

_

_

_
_
_

