পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি পড়ল সাধারণ যাত্রীর পকেটে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়তেই টিকিটের দাম বাড়াল এয়ার ইন্ডিয়া (Air India)। দেশীয় হোক বা আন্তর্জাতিক, সব রুটেই বাড়ানো হয়েছে ফুয়েল সারচার্জ (fuel surcharge)। ফলে ৮ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকেই বিমানে চড়া মানেই অতিরিক্ত খরচ।

ইরান-সহ পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে তেল আমদানিতে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (International Air Transport Association /IATA)-এর তথ্য বলছে, মাত্র এক মাসে জেট ফুয়েলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষে যেখানে প্রতি ব্যারেল ছিল ৯৯.৪০ ডলার, মার্চের শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৫.১৯ ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের দাম হু হু করে বাড়ায় উড়ান চালানোই এখন অনেক বেশি ব্যয়বহুল। সেই চাপই এবার সরাসরি টিকিটের দামে দেখা যাচ্ছে।

দূরত্ব অনুযায়ী নতুন ফুয়েল সারচার্জ ধার্য করা হয়েছে। ৫০০ কিমি পর্যন্ত ২৯৯ টাকা , ৫০১ থেকে ১০০০ কিমি ৩৯৯ টাকা, ১০০১ থেকে ১৫০০ কিমি ৫৪৯ টাকা, ১৫০১ থেকে ২০০০ কিমি ৭৪৯ টাকা এবং ২০০০ কিমির বেশি ৮৯৯ টাকা। এই অতিরিক্ত টাকা প্রতি যাত্রী এবং প্রতি সেক্টর হিসেবে ধার্য হবে।

এয়ারলাইন্সের ভাষায় একটি ফ্লাইটের প্রতিটি অংশই একটি সেক্টর। যেমন, কলকাতা থেকে দিল্লি সরাসরি গেলে একটি সেক্টর। কিন্তু যদি কলকাতা থেকে দিল্লি হয়ে মুম্বই যান, তাহলে দু’টি সেক্টর ধরা হবে। ফলে সারচার্জও (fuel surcharge) দু’বার দিতে হবে। যার ফলে টিকিটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।

বিদেশগামী যাত্রীদের ক্ষেত্রেও বাড়তি খরচ অনেকটাই বেশি। SAARC অঞ্চল (বাংলাদেশ বাদে) প্রতি সেক্টরে ২৪ ডলার (প্রায় ২২৩০ টাকা), পশ্চিম এশিয়া ৫০ ডলার(প্রায় ৪৬৫০ টাকা),চিন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া (সিঙ্গাপুর বাদে) ১০০ ডলার (প্রায় ৯৩০০ টাকা )।

আরও পড়ুন : পদত্যাগ করলেন এয়ার ইন্ডিয়ার CEO ক্যাম্পবেল উইলসন

এছাড়া, দূরপাল্লার ক্ষেত্রে খরচ আরও বাড়ছে। ইউরোপ ও ইংল্যান্ডে অন্তত ১৯,০৬৫ টাকা বেশি খরচ । উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াতে অন্তত ২৬,০৪০ বেশি। এই আন্তর্জাতিক সারচার্জ কার্যকর হবে ১০ এপ্রিল থেকে (ডলার হিসেবে হিসাব ধরা হয়েছে ৭ এপ্রিল দুপুরে ₹৯৩ প্রতি ডলার)। যদিও শুধু এয়ার ইন্ডিয়া নয়, আগে থেকেই ভাড়া বাড়িয়েছে এয়ার এশিয়া এক্স (AirAsia X)-এর মতো সংস্থাও।

–

–
–
