Wednesday, April 8, 2026

বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে প্রশাসনের ব্যর্থতা, বালি মাফিয়াদের ট্রাক্টর পিষে মারল বনকর্মীকে

Date:

Share post:

বালি মাফিয়াদের (Illegal Sand Mining) বাড়বাড়ন্ত বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে। এর খেসারত দিচ্ছেন সেই সরকারের কর্মীকেই। মধ্যপ্রদেশে বিজেপি প্রশাসনের ব্যর্থতা এল সামনে। বালি মাফিয়াদের দাপটে প্রাণ গেল এক বনকর্মীর। মোরেনা (Morena) জেলায় কর্তব্যরত অবস্থায় ট্রাক্টরের নীচে পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল ফরেস্ট গার্ড হরিকেশ গুরজারের (Forest Guard Harikesh Gurjar)। বুধবার (Wednesday) সকালে ন্যাশনাল চম্বল ঘড়িয়াল স্যাংচুয়ারি (National Chambal Gharial Sanctuary) সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ বালি বোঝায় ট্রাক্টর আটকাতে গিয়ে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। এভাবে বনকর্মীর মৃত্যু হওয়ায় ডবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নজরদারি যে তলানিতে থেকেছে তা এই ঘটনায় আরও একবার প্রমাণ করে দিল।

হরিকেশ ও তাঁর সহকর্মীরা মঙ্গলবার রাতে খবর পান চম্বল নদী থেকে বেআইনি ভাবে বালি তোলা হচ্ছে। বুধবার সকালে জাতীয় সড়ক ৫৫২-এর রাঠোল কা পুরা (Rathole ka Pura) ও রানপুর (Ranpur) গ্রামের মোড়ে নাকা চেকিং করা হয়। তারপরই বালিভর্তি একটি ট্রাক্টর আসতে দেখে বনকর্মীরা গাড়ি থামানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু চালক বিনোদ কোরি গাড়ি থামান না। বরং গাড়ির গতি আরও বাড়িয়ে দেন। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা হরিকেশ ট্রাক্টরের চাকায় পিষে যান। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ভারতীয়দের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ! ক্রমশ বাড়ছে উদ্বেগ

ঘটনার পর স্থানীয় একটি পেট্রল পাম্পের সিসিটিভি (CCTC) ফুটেজ থেকে অভিযুক্তের ছবি উদ্ধার করেছে পুলিশ (Police)। জেলার সব থানায় সেই ছবি পাঠিয়ে তল্লাশি শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরাও। তবে প্রশ্ন উঠছে, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালি তোলার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ডবল ইঞ্জিন সরকারের তরফে কেন আগে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভারতীয় জনতা পার্টি শাসিত মধ্যপ্রদেশে অবৈধ খনন রুখতে প্রশাসনিক তৎপরতার অভাবই বারবার এমন ঘটনার জন্ম দিচ্ছে, যার ফলে কর্তব্যরত সরকারি কর্মীদেরই প্রাণ হারাতে হচ্ছে।

মধ্যপ্রদেশে অবৈধ বালি খননকে ঘিরে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার প্রশাসনিক কর্তাদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ২০১২ সালে এক আইপিএস অফিসারকে (IPS Officer) ট্রাক্টর চাপা দিয়ে হত্যার ঘটনা থেকে শুরু করে ২০১৮ সালে ডেপুটি ফরেস্ট রেঞ্জার (Deputy Forest Ranger) খুন। বারবার একই ছবি সামনে এসেছে। তাও পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি বলেই অভিযোগ। বিজেপি শাসিত রাজ্যে অবৈধ খনন রুখতে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবেই বালি মাফিয়ারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। আর তার জেরেই কর্তব্যরত সরকারি কর্মীদের প্রাণ দিতে হচ্ছে। যা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

Related articles

বদমেজাজি জ্ঞানেশ! বৈঠকে বাদানুবাদ, ‘অপমান’ পর্যবেক্ষককে

জনপ্রতিনিধি থেকে সরকারি আধিকারিকদের প্রতি ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের আচরণ কতটা খারাপ তা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন...

ভোটার তালিকা ফ্রিজ কেন, ভোট দিতে না পারলে ট্রাইবুনাল কীসের? প্রশ্ন তুলে সরব মমতা

ট্রাইব্যুনালে বিচার হওয়ার আগেই কেন ভোটার তালিকা 'ফ্রিজ'? বুধবার, শ্রীরামপুরের নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) সিদ্ধান্ত...

ভুলের খেসারত! চাপে পড়ে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে গান বাঁধবেন বাদশা

নিজের নতুন গান 'টাটিরি' (Tatiri Song Controversy) ঘিরে বিতর্কের শেষ নেই বাদশার (Badshah)। গানের কথা ও দৃশ্যায়নে নারীদের...

সভামঞ্চ লাগোয়া জায়গায় বৈদ্যুতিক স্পার্ক! ক্ষুব্ধ মমতা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রীরামপুরে সভামঞ্চ লাগোয়া জায়গায় আগুন আতঙ্ক। দর্শকাসনে আগুনের ফুলকি (spark) দেখা যায়। স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন...