বাবরি মসজিদের নামে বাংলার সংখ্যালঘু ভোটারদের আবেগ নিয়ে ছেলেখেলা, ভোট ভাগ করতে বিজেপির সঙ্গে হাজার কোটি টাকার গোপন আঁতাত প্রকাশে আসতেই এবার হুমায়ুন কবীরের হাত ছাড়লেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি(Asaduddin Owaisi left Humayun Kabir’s hand)। অর্থাৎ আমজনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে জোটে নেই মিম(AIMIM)। শুক্রবার সকালে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানানো হয়েছে এবারের নির্বাচনে তারা বাংলায় একলা এবং স্বাধীনভাবে লড়বে।


বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) তরফ থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে দেখা যায় হুমায়ুনের সঙ্গে বিজেপির ১০০০ কোটি টাকার ডিল হয়েছে। ঘটনায় জড়িত প্রধানমন্ত্রীর দফতরও (PMO)। বাংলার সংখ্যালঘু ভোটারদের বাবরি মসজিদের আবেগ কাজে লাগিয়ে বিজেপিকে (BJP)সাহায্য করার জন্য ২০০ কোটি টাকা অগ্রিম নিয়ে নিয়েছেন হুমায়ুন। শুধু তাই নয় ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায় হুমায়ুন বলছেন, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে উপমুখ্যমন্ত্রী করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। এরপরই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়। এই অবস্থায় নিজেদের ইমেজের কথা মাথায় রেখে হুমায়ুনের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করল AIMIM। এমনিতেই তারা বিজেপির বি-টিম আখ্যা পেয়েছে। তাই মুখে যতই সংখ্যালঘু অপমানের প্রতিবাদে জেরে এই সিদ্ধান্ত বলে দাবি করুক না কেন, ওয়েসী বুঝতে পেরেছেন, এই পরিস্থিতিতে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে থাকা মানে যে নিজের পায়ে কুড়ুল মারা। আর তাই তড়িঘড়ি একলা চলার নীতি নিল AIMIM। ফলে রাজনৈতিকভাবে আরও একঘরে হয়ে গেলেন হুমায়ুন। শুরুতে হুমায়ুন এক তরফা ঘোষণা করে দিয়েছিলেন কংগ্রেস, সিপিএম এবং আইএসএফকে জোটে নেবেন। শেষে AIMIM-এর সঙ্গে সমঝোতা করে ভোটে নামে হুমায়ুনের দল। শুক্রবারেও যৌথভাবে জনসভা করার কথা ছিল। কিন্তু এখন সেসব অতীত।

মিমের পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘যে কোনও রাজ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষেত্রে AIMIM -র নীতি হল, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যেন একটি স্বাধীন রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর পায়। কিন্তু সেখানে আমজনতা উন্নয়ন পার্টি যেরকম আবেগ নিয়ে খেলেছে মুসলমানদের বোকা বানাতে চেয়েছে, হুমায়ুন কবীরের এরকম বক্তব্যকে সমর্থন করেনা মিম।’

