ভোটার তালিকা থেকে বাংলার ন্যায্য ভোটারদের হিসাব করে বাদ দিয়েই বিধানসভা নির্বাচন বিজেপির থালায় সাজিয়ে দিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। ভোটের দিন থেকে গণনা পর্যন্ত মানুষ ও কর্মীদের উপর নির্ভর করে যে ভোটে জেতা সম্ভব নয়, তাও যে বুঝে গিয়েছে বঙ্গ বিজেপি নেতারা, তা বোঝা যাচ্ছে নির্বাচন কমিশনের (ECI) তৎপরতায়। পূর্ব মেদিনীপুরে ভোট গণনায় যে লোডশেডিংয়ের (loadshedding) ট্র্যাডিশন রয়েছে, তা রবিবার ময়নার (Moyna) বিশাল মিছিল থেকে মনে করিয়ে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় (Abhishek Banerjee)। সেখান থেকেই বিজেপিকে সতর্ক করে দিলেন ভোট গণনায় (counting centre) এবার আর লোডশেডিং করা সম্ভব হবে না। কারণ গণনাকেন্দ্রের বাইরে তৃণমূলের পাঁচ হাজার প্রতিনিধি থাকবে।

রবিবাসরীয় নির্বাচনী প্রচারের ঝড় তুলতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়নায় রবিবার তৃণমূল প্রার্থী চন্দন মন্ডলের সমর্থনে রোড শো (road show) করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই ভোট গণনা নিয়ে কর্মীদের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা দিলেন অভিষেক। এদিন অভিষেক রোড শো শেষ করে কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা অতন্দ্র প্রহরীর মতো বুথ রক্ষা করবেন। অনেকে হম্বিতম্বি করত। এখন তাদের ময়না ঢোকা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। চার তারিখে গণতান্ত্রিকভাবে মানুষ জবাব দেবে। তারপর বাকচা- গজিনায় রবীন্দ্র সংগীতের সঙ্গে ডিজে (DJ) বাজবে। যে যে ভাষা বোঝে আমি সেই ভাষায় জবাব দিতে জানি। এখানে কোনও লোডশেডিং হবে না। আমি জেনারেটর ব্যবস্থা করে রাখবো। ওদের সমস্ত দু নম্বরি ধরা পড়ে গেছে।

রবিবার ময়নার পরমানন্দপুর জগন্নাথ ইনস্টিটিউশন স্কুল মাঠ থেকে বাঘের পোল পর্যন্ত রোড শো করেন অভিষেক। প্রচার চালান ময়নার প্রার্থী চন্দন মণ্ডলের সমর্থনে। সেই রোড শো-তে যে জন সমাগম হয় তাতে তৃণমূলের জয়ের ছবিটাই স্পষ্ট হয়। রাস্তার দু’ধারে কাতারে কাতারে মানুষ ভিড় জমান এদিন। সেখানেই কর্মীদের আশ্বস্ত করে অভিষেক বলেন, আজকের পর তো ওদের আর ঘুম আসবে না। এই মিছিল দেখে ঘুম উড়ে যাবে। ২৩ তারিখ আপনাদের সঙ্গে বুথ টু বুথ যোগাযোগ নিয়ে থাকবো। যেখানে যা দরকার হবে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী আমি করব। ময়নাকে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত করতে হবে।

আরও পড়ুন : তালিবান আর বিজেপির পার্থক্য নেই: বাংলা-বিরোধীদের তোপ অভিষেকের

তবে সেক্ষেত্রেও ভোট গণনা যে পূর্ব মেদিনীপুরে একটা বড় ফ্যাক্টর, তা নিয়েও সতর্ক করেন অভিষেক। তিনি আরও জানান, রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নির্বাচনী ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। কোনও লোডশেডিং (loadshedding) হবে না। যেদিন কাউন্টিং হবে কাউন্টিং সেন্টারের (counting centre) বাইরে তৃণমূলের পাঁচ হাজার করে প্রতিনিধি থাকবে। কোনও চুরি জোচ্চুরি হতে দেব না।

–

–

–

–
–
