কয়েক দশক ধরে নিজের দেশেই বাস, হাতে রয়েছে জমির দলিল থেকে শুরু করে বৈধ পরিচয়পত্র। অথচ ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী প্রক্রিয়ার শেষে নিজেদের গ্রামেই যেন ‘পরবাসী’ হয়ে পড়েছেন ছত্রপুর এলাকার বাসনা মহন্ত, নূপুর সরকার কিংবা বিমলা বর্মনের মতো বাসিন্দারা। অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর)-এর পর ভোটার তালিকা থেকে রহস্যজনকভাবে বহু মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। কারও নামের পাশ থেকে পদবি উধাও হয়েছে, আবার কাউকে পাঠানো হয়েছে ‘ট্রাইব্যুনাল লাইনে’।

গ্রামবাসীদের দাবি, গত তিন-চার দশক ধরে তাঁরা এই গ্রামেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। বিগত প্রতিটি নির্বাচনে তাঁরা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু এবারের সংশোধিত তালিকায় দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশেরই নাম মুছে ফেলা হয়েছে। তথ্যগত অসংগতির দোহাই দিয়ে নাম বাদ দিয়ে তাঁদের বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার বা ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে পাঠানো হচ্ছে।

এই চরম অব্যবস্থার করুণ ছবি ধরা পড়ল ট্রাইব্যুনালের লাইনে। সেখানে দেখা গেল, ব্রেন স্ট্রোকের রোগীও কথা বলার শক্তি হারিয়ে যন্ত্রণাক্লিষ্ট শরীরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। বিমলা বর্মনের মতো প্রবীণ নাগরিকদের চোখেমুখে এখন শুধুই আতঙ্কের ছাপ। তাঁদের প্রশ্ন, “জমি-জায়গার কাগজ আছে, আধার কার্ড আছে, এত বছরের ভোটার কার্ডও আছে। তবে হঠাৎ করে কেন আমাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে?”

অনেকের ক্ষেত্রে নামের বানান বিকৃত করার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। হাসপাতাল বা অন্যান্য কর্মস্থল ফেলে বৃদ্ধ বয়সে ট্রাইব্যুনালের বারান্দায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই হয়রানির প্রতিবাদে সরব হয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনের গাফিলতি ও ভোটার তালিকার ত্রুটির খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নির্বাচন কমিশনের আধিকারিক ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে নাগরিক অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন ছত্রপুর এলাকার বাসিন্দারা। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদিও দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তবে ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কায় প্রহর গুনছেন শয়ে শয়ে সাধারণ মানুষ।

আরও পড়ুন- ভোটের মুখে কলকাতা পুলিশে বড় রদবদল, লালবাজারের শীর্ষ স্তরে দায়িত্ব বদল কমিশনের

_

_

_

_
_
_

