Monday, May 4, 2026

রবীন্দ্রসঙ্গীতকে বলেছে ‘রবিশঙ্কর’! ফের বাঙালি অস্মিতা তুলে শাহকে নিশানা অভিষেকের

Date:

Share post:

“যারা বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি-ঐতিহ্য জানে না, তাঁরা বক্তব্য রাখছে। এক লাইন বাংলা পড়তে পারবে না। একটা শব্দ উচ্চারণ করতে পারে না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে (Rabindranath Tagore) বলে ‘রবীন্দ্রনাথ স্যান্যাল’।  অমিত শাহ (Amit Shah) সভা করতে গিয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীতকে বলেছে ‘রবিশঙ্কর’। এই হচ্ছে বিজেপি (BJP),” করিমপুর রেগুলেটেড মার্কেট গ্রাউন্ডের জনসভা থেকে শাহকে তোপ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। বলেন,”এরা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া। কোনও বিষয় নেই কথা বলার মতো। কারণ এরা মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। একজন মহিলার বিরুদ্ধে সমস্ত রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে কাজে লাগাচ্ছে বিজেপি।” এরপরেই বিজেপি নেতাদের ‘বহিরাগত জমিদার’ তকমা দিয়ে অভিষেক বলেন, “বৈচিত্র্যের মধ্যে একতা, এখানে অনেক সংখ্যালঘু বোনেরা, দিদিরা, মায়েরা এসেছেন; আমার অনেক হিন্দু মায়েরা আছেন যারা শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনি দিয়ে আমাদের বরণ করেছেন। এটাই তো বাংলা, এটাই তো সম্প্রীতির বাংলা। ‘নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান, বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান’।”

”মাছ খেলে আমাদের বলছে ‘মুঘল’। আমি বলছি না, প্রধানমন্ত্রী বলছেন। কারা মাছ খান একটু হাত তুলুন তো? কারা মাছ-মাংস-ডিম খান একটু হাত তুলুন? বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন যে বিহারে আর মাছ-মাংস বিক্রি করা যাবে না। বিজেপি কোনো ব্যবস্থা সেই উপ-মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নেয়নি। আমরা কী খাব, কী পরব- ডিম খাব না মাছ খাব না মাংস খাব? ধুতি-পাঞ্জাবি পরব না পায়জামা-পাঞ্জাবি পরব? জামা পরব না টি-শার্ট পরব? কোন রঙের পরব? কোথা দিয়ে হাঁটব? কার সাথে কথা বলব? তা একান্ত এই বাংলার মানুষ ঠিক করবে, দিল্লির বহিরাগত জমিদাররা নয়.” আশ্বাস দেন অভিষেক। বলেন, “কেউ ভয় পাবেন না। ৪ঠা জুনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আপনাদের ভোটাধিকার রক্ষার দায়িত্ব নেবে। মানুষ যতদিন বাংলায় আছে, নিশ্চিন্তে থাকবেন। পাড়ার কোনও ভদ্রলোক বিজেপি করে না। যত চোর-জোচ্চোর আর বেঈমান সব বিজেপিতে। ওখানে টিকিট পাওয়ার শর্তই হলো মিথ্যা কথা বলা আর অশান্তি করা। যদি কেউ বাংলাকে ভালোবাসে, সে তৃণমূলকে পছন্দ না করলেও বিজেপির পদ্মফুলে ভোট দিতে পারবে না-এটা আমার বিশ্বাস। ৮৫ বছরের বৃদ্ধকেও এনআরসি-র লাইনে দাঁড় করায় এরা!” আরও পড়ুন: মোথাবাড়ি কাণ্ডে ফের NIA-র জালে ২ কংগ্রেস নেতা! আপাতত মুক্ত প্রার্থী সায়েম

এদিন অভিষেক বলেন, ”নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, রাজনাথ সিং, ধর্মেন্দ্র প্রধান, পিযূষ গোয়েল, ভূপেন্দ্র যাদব সবাই সকালে বাংলায় আসছে, রাতে চলে যাচ্ছে। এরা ডেলি প্যাসেঞ্জারি করছে। একজন মহিলার বিরুদ্ধে সব রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে কাজে লাগাচ্ছে। বাংলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলার মানুষকে আঘাত করলে তাঁরা প্রত্যাঘাত করতে জানে। টাকা আটকে বঞ্চনা করে বাংলার মানুষকে শাস্তি দিতে চাইলে আগামী ৪ মে তার জবাব পেয়ে যাবে। শাস্তি কী জানতে পারবেন। নোটবন্দি থেকে ভোটবন্দি সব জায়গাতেই লাইনে মানুষকে দাঁড় করানো হয়েছে। বলেছিল এনআরসি করবে, আমরা করতে দিইনি। বলেছিল ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেব। বিজেপি মানেই ডিটেনশন, আর তৃণমূল মানে ‘নো টেনশন’। তৃণমূল যতদিন আছে, আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন। বিজেপির নেতারা ভয় দেখাবে যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করে দেব। আমাদের প্রতিজ্ঞা-যতদিন বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সরকার থাকবে, মহিলারা আজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবেন। নির্বাচনের দিন ঝড়-জল-বৃষ্টি যাই হোক, লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে হবে। ২৯ এপ্রিল লাইনের প্রতিবাদ লাইনে দাঁড়িয়ে হবে। তাদেরকে কড়ায়-গণ্ডায় আমাদের জবাব দিতে হবে। আমাদের জবাবটাও মায়েরা লাইনে দাঁড়িয়েই দেবেন। বাংলায় একটা কথা আছে- ‘সেকরার ঠুকঠাক, কামারের এক ঘা’। আপনি সেই কোপ মারার সুযোগটা আগামী ২৯ তারিখ পাবেন। যারা আমাদের নিপীড়িত, বঞ্চিত, লাঞ্ছিত, অবহেলিত, অত্যাচারিত ও শোষিত করে রেখেছে, তাদেরকে জবাব এমনভাবে দিতে হবে যাতে বাংলার সাথে বেইমানি করার আগে বিজেপির বহিরাগত নেতারা ১০০ বার ভাবে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ক্ষমতায় ১ লক্ষের বেশি মানুষকে করিমপুরেই বাড়ি করে দিয়েছেন।” ইডি, সিবিআই, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিশানা করে তিনি বলেন, ”৪ মে ভোটযন্ত্র খোলার পরে আর বহিরাগতদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। ভোকাট্টা হয়ে যাবে। বাংলা কখনও মাথা নত করবে না । বাংলা মেরুদন্ড বিক্রি করতে জানে না। বশ্যতা স্বীকার করতে জানে না। আত্মসম্মান বিক্রি করে না।”

Related articles

ভোট গণনার প্রস্তুতিই নেই কমিশনের! চূড়ান্ত হয়রানিতে সরব কুণাল

ভোটগণনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধ গাফিলতি ও হয়রানির গুরুতর অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক...

ডাস্টবিনে ভিভিপ্যাট স্লিপ! ভোটগণনার আগের রাতে কাঠগড়ায় কমিশন

ভোটগণনার ঠিক আগের রাতে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল উত্তর ২৪ পরগনার সুভাষ নগর এলাকা। নোয়াপাড়া ও মধ্যমগ্রাম...

বিজেপি আসছে না, আমরাই জিতছি! ভবানীপুরের এজেন্টদের ‘লাস্ট মিনিট সাজেশন’ দলনেত্রীর

পরীক্ষার আগে লাস্ট মিনিট সাজেশন যাকে বলে। গণনার আগের রাতে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের কাউন্টিং এজেন্টদের ডেকে সেই সাজেশনই...

গণনা কেন্দ্রে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা, সোমে অগ্নিপরীক্ষা রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের 

দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হচ্ছে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা।...
বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ লাইভ ফলাফল আপডেট
পশ্চিমবঙ্গ মোট বিধানসভা কেন্দ্র: 293
টি এম সি
0 এগিয়ে
বিজেপি
0 এগিয়ে
কংগ্রেস
0 এগিয়ে
বামফ্রন্ট
0 এগিয়ে
আই এস এফ
0 এগিয়ে
অন্যান্য
0 এগিয়ে