প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা তো বটেই, এবারের নির্বাচনে বাংলা দখল করতে বিজেপির ভিন রাজ্যের নেতাদের ফেভারিট টুরিস্ট স্পট হয়ে গিয়েছে বাংলা। একদিকে নরেন্দ্র মোদি হাতে পায়ে ধরে ভোট ভিক্ষা করছেন, অন্যদিকে অমিত শাহ (Amit Shah) কর্মীদের প্ররোচিত করছেন বাংলায় অশান্তি ছড়াতে। যেভাবে কুৎসিত ভাষা ও মনীষীদের প্রতি অপমানজনক প্রচার বিজেপির নেতারা রাজ্যজুড়ে চালাচ্ছেন, তা নিয়ে এবার বিজেপিকে সতর্ক করার পথে হাঁটল বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।

সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে ধূপগুড়ির বিজেপি প্রার্থীর একটি ভিডিও যেখানে তিনি অসম্মান করেছেন জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর (Mahatma Gandhi) অপমান করেছেন। তা যে বিজেপির জাতীয় নেতাদের দেখানো পথেই, সেটাও প্রমাণ করে দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ তুলে ধরেন, গোটা ভারত থেকে বিজেপির ছোট-বড়, চার আনা, দু আনা নেতারা এসে বাংলায় নানা হুংকার দিচ্ছে। বাংলার বকেয়া নিয়ে একটি শব্দ নেই। উল্টে বাংলার মনীষীদের অপমান, দেশের মনীষীদের অপমান। ভারতীয় সংস্কৃতিকে এবং বাংলার সংস্কৃতিকে অপমান চালিয়ে যাচ্ছেন। আজও অমিত শাহ রবীন্দ্রসঙ্গীত বলতে গিয়ে রবিশঙ্কর বেরিয়ে যাচ্ছে। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় উচ্চারণ করতে গিয়ে তাঁরা যা হাল হয়েছে। এইভাবে লিখে দেওয়া নাম পড়ে বাংলার প্রতি সম্মান দেখানো যায় না। এই বিজেপি না করে ভারতের মনীষীদের সম্মান, না করে বাংলার মনীষীদের সম্মান। বাংলায় এসে মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে সামলাতে না পেরে বাংলায় কুৎসা করছেন। এক একজনের ভাষা থেকে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। বিজেপি নেতাদের উচিত নাকে খত দিয়ে ক্ষমা চাওয়া।

বিজেপির হুমকি রাজনীতি শুরুই করছেন দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। সেই উদাহরণ তুলে ধরে তৃণমূলের সতর্কবার্তা, পহেলগামে হামলার কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (Ministry of Home Affairs) থেকে যাকে হয় বরখাস্ত করা উচিত, নাহয় ইস্তফা দেওয়া উচিত সেই লোকটা ঘুরে ঘুরে এখানে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। এমন ভাবভঙ্গি গুণ্ডামির ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে যেটা একজন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি হুমকি দিচ্ছেন, প্ররোচনা দিচ্ছেন। যেভাবে অমিত শাহ (Amit Shah) রাস্তার গুণ্ডাদের ভাষায় কথা বলছেন সেই ভাষায় আপনারা প্ররোচিত হয়ে এলাকায় এলাকায় এমন কাজ করবেন না যাতে ভোটের পরের দিন আপনাদের লজ্জিত হতে হবে। আমরা শান্তি চাই, উত্তেজনা চাই না।

শুধুমাত্র ভাষায় নয়, বিজেপি গোটা নির্বাচন ঘিরেই যে সন্ত্রাস চালানোর চেষ্টা চালাচ্ছে, তারও উদাহরণ তুলে ধরা হয় তৃণমূলের তরফে। ভোট লুটের চেষ্টা চালানো বিজেপিকে কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) বার্তা, বাইরে থেকে লোক ঢোকানো হচ্ছে অসৎ উদ্দেশ্যে। তাঁদের বলি বাংলার মাটিতে বাড়াবাড়ি করবেন না। ভোটের দিন যদি ধরা পড়ে আপনি এখানকার বাসিন্দা নন, শুধু ভোট দিতে এসেছেন। জাল ভোটার কার্ড (fake voter card) নিয়ে এসেছেন, বাড়িতে বলে আসবেন এখান থেকে ফিরতে সময় লাগবে। আইন আছে, বন্দি হতে হবে।

আরও পড়ুন : রবীন্দ্রসঙ্গীতকে বলেছে ‘রবিশঙ্কর’! ফের বাঙালি অস্মিতা তুলে শাহকে নিশানা অভিষেকের

এরপরেও বাংলায় এসে ভুরি ভুরি অভিযোগ তুলছেন বিজেপির নেতারা। অথচ তাঁদের নেতাদের ও শাসন ব্যবস্থার চরিত্র কি, তা তুলে ধরলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা (Shashi Panja)। তিনি স্পষ্ট করে দেন, অমিত শাহ যখনই আসেন বলেন দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কারা বলেন? যাঁরা নিজেরা দুর্নীতিগ্রস্ত। এবং দুর্নীতিগ্রস্ত নেতৃত্বকে তাঁদের ওয়াশিং মেশিনে ঢুকিয়ে নিয়ে নেয়। বাংলায় যে নেতারা এখন উজ্জ্বল হচ্ছেন তাঁরা ওয়াশিং মেশিনে ঢুকে পরিস্কার হয়েছেন। বিজেপির বিভিন্ন রাজ্যে গেলেও সেটাই দেখা যায়। কারা কয়লা মাফিয়া নিয়ে বলছেন? তাঁদের তো ছবি দেখা যাচ্ছে, সেই জয়দেব খাঁ এবং অন্যান্য কয়লা মাফিয়াদের সঙ্গে। কয়লা মাফিয়ারা ভীষণ নিরাপদ আশ্রয় পায় বিজেপির কাছে।

–

–

–
–

