Wednesday, June 17, 2026

যে ভাষা বোঝে সেই ভাষাতেই বোঝাব! কাকে হুঁশিয়ারি অভিষেকের?

Date:

Share post:

ভোটমুখী রাজনীতিতে ফের অমিত শাহকে (Amit Shah) এক হাত নিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বৃহস্পতিবার দুপুরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুরের সিঁয়ারি মাঠে ভগবানপুর ও পটাশপুর বিধানসভার তৃণমূলের প্রার্থী মানব পড়ুয়া ও পীযূষকান্তি পণ্ডার সমর্থনে জনসভা করেন অভিষেক। সেখানেই অমিত শাহকে এক হাত নেন অভিষেক। এদিনের জনসভায় তৃণমূলের কর্মীদের উপস্থিতি ছিল বিশেষ চোখে পড়ার মতো। মানুষকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি বিজেপির নেতাদের কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এসে বলেছেন ৩০ তারিখ তৃণমূলের লোকেরা বাড়ি থেকে বেরোতে পারবে না। বেরোলে নাকি সবাইকে জেলে ঢুকিয়ে দেবে।

এদিন অভিষেক বলেন, “আমি অমিত শাহকে বলে রাখছি, গুজরাতের কোনও গুন্ডা বাঙালিকে ভয় দেখানোর মতো দুঃসাহস এখনও ভারতের মাটিতে কারোর হয়নি। আর যদি বুকের পাটা থাকে চার তারিখ দুপুরে কলকাতায় আপনি থাকবেন। যে ভাষা যারা বোঝে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সে-ভাষায় জবাব দিতে জানে। তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার কয়েকদিন পরে ভগবানপুরে বোমা বিস্ফোরণের পুরনো এক মামলায় তৃণমূল প্রার্থী মানব বড়ুয়ার কাছে এনআইএর নোটিশ এসে পৌঁছায়। তা নিয়ে অভিষেক কটাক্ষ করে বলেন, পুরনো ওই ঘটনায় আজ থেকে দশ দিন আগে আমাদের প্রার্থী মানব বড়য়ার মানসিকতা ভেঙে দিতে এনআইএ নোটিশ পাঠিয়েছে। কিন্তু আমরা হলাম জোড়া ফুলের তৃণমূল। যত তুমি মারবে লড়াইয়ের ভাষা তত তীব্র হবে। জেল ততই বাড়বে। ইডি, সিবিআই, ইনকাম ট্যাক্স, নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে কোনও লাভ হবে না। যত কুৎসা করবে তত গর্তে ঢুকবে। এদিন অভিষেক আরও বলেন, যারা বাংলার মানুষের ওপর অত্যাচার করে এবং তাদের বাংলাদেশি বলে রোহিঙ্গা দাগিয়ে দেয় তাদের সেই ভাষায় জবাব দিতে আমি জানি। ৪ তারিখ দুপুর একটার পর রবীন্দ্র সংগীতের সাথে ডিজে বাজবে। কে কত বড় নেতা আমি তালিকা তৈরি করে রেখেছি। ব্লক ধরে ধরে, পঞ্চায়েত ধরে ধরে সুদে-আসলে হিসাব নেব। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে অভিষেক আশ্বস্ত করে বলেন, অনেকে ভয় দেখাচ্ছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হয়ে যাবে। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করে যাচ্ছি আজীবন আপনারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবেন। বিজেপি এখন বলছে ওরা নাকি ক্ষমতায় এলে তিন হাজার টাকা দেবে। আমি ওদের নেতাদের চ্যালেঞ্জ করে বলছি ১৫টার বেশি রাজ্যে বিজেপির সরকার আছে। যদি একটা রাজ্যে দেখিয়ে দিতে পারেন যেভাবে করে অভিষেক বলেন, আমি বিজেপির নেতাদের বলব ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী কোন মানুষের জন্য কী কাজ করেছে তার একটা রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসুন। একদিকে তোমার সরকারের রিপোর্ট কার্ড আর একদিকে আমার সরকারের রিপোর্ট কার্ড থাকবে। আমি যদি লেজেগোবরে করে মাঠ ছাড়া করতে না-পারি তাহলে আমার নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নয়। যতজন বাড়ির টাকা পাচ্ছেন তাদের ১০ পয়সাও প্রধানমন্ত্রীর অবদান নেই। এদিন বক্তব্যের মাঝেই একের পর এক রাজ্য সরকারের উন্নয়নের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন অভিষেক। এরপর বাঙালি অস্মিতা টেনে বলেন, ওরা মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছে। তাই ওদের ২৩ তারিখ এমন ভাবে জবাব দিতে হবে যেন বাঙালির সাথে বেইমানি আর গদ্দারি করার আগে ১০০ বার ভাবে। এমনভাবে শিক্ষা দিতে হবে যে প্রধানমন্ত্রী আমাদের মাছ খাই বলে মুঘল বলেছে তা আর বলার সাহস না পায়। পটাশপুর ও ভগবানপুরের প্রার্থীকে জেতানোর টার্গেট বেঁধে দিয়ে অভিষেক বলেন, পীযূষ পণ্ডা আর মানব বড়ুয়াকে ৪০ হাজারের বেশি ব্যবধানে আপনারা জেতান। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি ডায়মন্ড হারবার লোকসভাকে যেমনভাবে আমি বুক দিয়ে আগলে রাখি তার ব্যতিক্রম পটাশপুর আর ভগবানপুর হবে না। আপনাদের দাবিমতো এখানে আমরা জিতলেই পটাশপুরের ক্ষেত্রে সরকারি কলেজ এবং ভগবানপুরের ক্ষেত্রে মহিলা কলেজ আমরা দ্রুত তৈরির কাজ শুরু করব।”

Related articles

জনকল্যাণের নামে প্রহসন! বিজেপির শিবিরে চরম হয়রানির শিকার সাধারণ মানুষ

নকলেও ফ্লপ বিজেপি! তৃণমূল সরকারের দুয়ারে সরকারকে ‘কপি’ করেও নাগরিক পরিষেবায় ছড়িয়ে লাট করল শুভেন্দু-সরকার। রাষ্ট্রসংঘের প্রশংসাপ্রাপ্ত ‘দুয়ারে...

জাতীয় গেমস বাংলায়! দায়িত্ব নিয়েই পরিকাঠামোতে জোর ইন্দ্রনীলের

  কয়েক দশক আগে শেষ বার বাংলায় জাতীয় গেমস হয়েছিল, এরপর থেকে এই গেমস আয়োজনের সুযোগ পায়নি বাংলা। পালা...

আদানি থেকে টাটা- ৪২ শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ: রাজ্যে লগ্নি টানতে মরিয়া তাপস

বাংলাকে ফের শিল্প মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত করাই লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যেই দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শিল্পপতিদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ শুরু...

ফ্লোর টেস্ট হোক, কে কোথায় আছে দেখা যাবে! বিধানসভায় পাল্টা চ্যালেঞ্জ ঋতব্রতর

বিধানসভায় বিরোধী দলের স্বীকৃতি এবং তৃণমূলের প্রকৃত শক্তি ঠিক কত, তা নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের টানাপোড়েন যখন...