নকল হইতে সাবধান! মাঝে মাঝেই এই ধরনের পরামর্শ শোনা যায় তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের মুখে। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সরকারের প্রকল্পই হোক বা তৃণমূল সুপ্রিমোর স্লোগান- সবই প্রায় Copy-Paste করে গেরুয়া শিবির। বঙ্গে ভোট প্রচারে এসে মমতার সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেও নকল করার চেষ্টা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। ঝাড়গ্রামে (Jhargram) সভাশেষে হঠাৎই এক মুড়ির দোকানে গিয়ে ঝালমুড়ির খান তিনি। এরপর দোকানিকে জিজ্ঞাসা করেন, কেমন ব্যবসা চলছে? হয়তো ভেবেছিলেন, হতাশার কথা শুনবেন। কিন্তু বাংলায় ব্যবসা করা ওই যুবক জানান, তাঁর ভালোই দিন চলে যায়। তাই শুনে আর বেশি কথা না বাড়িয়ে কিছুটা ঝালমুড়ি মুখে ফেলে ওখান থেকে চলে যান মোদি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মহিলাদের হাতে নগদ অর্থ দেওয়ার উদ্দেশ্যে চালু করেছেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। তাকে প্রথম থেকেই কটাক্ষ করে গেরুয়া শিবির। এরপর বেকার যুবক-যুবতীদের সুবিধার্থে যুবসাথী প্রকল্প চালু করা হয়েছে। তাকে সরাসরি ‘ভিক্ষা’ বলে নিশানা করেছে বিজেপি (BJP) নেতৃত্ব। অথচ যখন বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তাদের ইস্তেহার- যেটা তারা নাম দিয়েছে ‘সংকল্প পত্র’- সেটা প্রকাশিত হয়, তখন দেখা যায় তাতে ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে যুবসাথী সব ভাতাই দ্বিগুণ পরিমাণে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। বিজেপির সংকল্প পত্রকে তৃণমূলের ইস্তেহারের নকল বলে কটাক্ষ করেছে রাজনৈতিক মহল।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের (TMC) সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে বলেন কে প্রার্থী হয়েছেন সেটা বড় কথা নয়, ধরে নিন আপনার এখানে প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁকে দেখেই ভোট দেবেন। তৃণমূলের এই কয়েনেজ বোধহয় মনে ধরেছে মোদির (Narendra Modi)। তিনিও বঙ্গে ভোট প্রচারে এসে হঠাৎ বলতে শুরু করলেন ২৯৪টি আসনে তিনি প্রার্থী। কিন্তু কী মুশকিল! মোদি তো দেশের প্রধানমন্ত্রী, তাহলে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তিনি হবেন কী করে? আর তাঁকে প্রার্থী হিসেবে মানুষ ভাববেই বা কি করে? এই বিষয়টি তৃণমূল সুপ্রিমো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার পর থেকে অবশ্য প্রার্থী হওয়ার কথা আর বলছেন না মোদি।

বরাবরই সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকতে ভালবাসেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে যেকোনও জায়গায় গিয়েই স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে তাঁর। কখনও পাহাড়ি রাস্তার ধারে মোমো বানান, আবার কখনও চায়ের দোকানে চা তৈরি করেন। নিজে হাতে বাচ্চাদের লজেন্স, বিস্কুট এমনকী ফুচকাও খাওয়ান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই ঘরের মেয়ের ইমেজই তাঁকে সর্বসাধারণের নেত্রী করে তুলেছে। মোদি আসেন, ভাষণ দেন, চলে যান। বাংলার মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ক্ষীণ-একথা বোধহয় বঙ্গ নেতৃত্ব তাঁর কানে দিয়েছে। ফলে রবিবার ঝাড়গ্রামের সভা শেষে সোজা এক মুড়ির দোকানে ঢুকে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে একটা ঠোঙা ঝালমুড়ি নিয়ে খান। সামনে থাকা দুই-একটি শিশুকে এক চামচ করে দেন। কথায় কথায় জিজ্ঞাসা করেন, দোকান কেমন চলছে? বাংলায় কর্মসংস্থান, রোজগার নেই বলে প্রচার করা বিজেপি নেতা হয়তো ভেবেছিলেন, হতাশার কথা শোনাবেন এই বিক্রেতা বিক্রম সাউ। কিন্তু সেটা না করে মোদিকে হতাশ করে যুবক জানান, তাঁর ভালোই চলে যায়। শুনে বেশি কথা না বাড়িয়ে অল্প মুড়ি খেয়ে সেখান থেকে চলে যান নরেন্দ্র মোদি।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যে তৃণমূল নেত্রীকে কথায় কথায় নিশানা করেন বিজেপি নেতৃত্ব, বঙ্গে ভোট প্রচারে এসে বারবার তাঁকেই কেন নকল করতে হচ্ছে বিজেপি নেতাদের? গেরুয়া শিবিরের কি কোনও স্বকীয়তা নেই? না কি সেই কালচার বাংলা থেকে এতটাই আলাদা যে রাজ্যের মানুষের সঙ্গে মিশতে তাঁদের তৃণমূলের কায়দা নকল করতে হচ্ছে- প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলের।

–

–

–
–
–
–
