কখনও হেলিকপ্টার উড়তে বাধা। কখনও সভা করতেই অনুমতি নেই। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর জন্য হরেক নিয়ম লাগু করার জন্যই নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে যে বাংলার কয়েকশো আধিকারিক-পুলিশ বদল করেছে বিজেপি, এবার তা কার্যত প্রমাণ হয়ে গেল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কেন্দ্রে। খোদ ভবানীপুরে (Bhawanipore) নির্বাচনী প্রচারের অনুমতি দিল না কমিশনের বসানো রিটার্নিং অফিসার (Returning Officer)। কমিশনের (ECI) নিয়ম অমান্য না করেই কোনওরকম প্রতীক ছাড়া পাড়ার মেয়ে হয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মঙ্গলবার দিনভর প্রচার শেষে ভবানীপুরের ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের কলিন লেনে ঢোকেন তৃণমূল নেত্রী। যেহেতু কমিশনের অনুমতি নেই, তাই নিজে তো বটেই সঙ্গে থাকা দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার সহ বাকিদের বলেন, তৃণমূলের সিম্বল (জোড়া ফুল) জামা থেকে খুলে রাখতে। কোনওরকম ফ্ল্যাগ-সিম্বল-স্লোগান ছাড়াই শুধু এলাকাবাসীর সঙ্গে জনসংযোগ সারেন। সঙ্গে এক কাপ চা। কুশল বিনিময় করেন। খোঁজ নেন কে কেমন আছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ঘরের মেয়ের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা দেন। বেশ কিছুক্ষণ থেকে এলাকা ছাড়েন নেত্রী। আপাতত ঠিক হয়েছে ২৪ তারিখ এখানেই একটি প্রচারসভা করবেন প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
আরও পড়ুন : হলদিয়া থেকে টাকা কোথায় যায় সব জানি! হুঙ্কার মমতার

মঙ্গলবার দলীয় প্রার্থীদের প্রচার সভায় ভবানীপুরের কর্মসূচি নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুরের কমিশন নিযুক্ত রিটার্নিং অফিসারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, কত বড় সাহস ভাবুন! আমি আমার কেন্দ্রে প্রচার করব। কিন্তু সভার অনুমতি দিচ্ছে না প্রশাসন। এক গদ্দারকে ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার করে নিয়ে এসেছে। অন্য কোনও পার্টির মিটিং নেই, তাও পারমিশন দিচ্ছে না! আমিও দেখব, নির্বাচনের পর বিজেপি তোমাকে গভর্নর করে না রাষ্ট্রপতি করে! থাকো তো বারুইপুরে। আমরাই বিডিও বানিয়েছিলাম! আর আমাকেই মিটিং করতে দিচ্ছ না? তুমি রিটার্নিং অফিসার হওয়ার যোগ্য নও! ভোটের দিন ভবানীপুরের তিনটে ওয়ার্ড বেছে নিয়েছে। সেন্ট্রাল ফোর্সকে দিয়ে ছাপ্পা দেওয়াবে। এমন ধাপ্পা দেব না, বুঝবে ঠ্যালা! তুমি আমাকে ব্যান করবে? আমি ঘরে বসে সত্যাগ্রহ করব। দেশ-বিদেশ তোলপাড় হয়ে যাবে। তুমি আমাকে চেন না!

–

–

–

–
–
–
