দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রস্তুতিতে কোমর বেঁধে নামল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে শান্তি বজায় রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ বার আরও বড় পদক্ষেপ করা হয়েছে। কমিশন সূত্রের খবর, দ্বিতীয় দফার ভোটে রাজ্য জুড়ে মোট ২,৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বারের দফায় ভৌগোলিক গুরুত্ব এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে জেলাভিত্তিক বাহিনী বণ্টনে বিশেষ কৌশল নিয়েছে কমিশন। তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় সবথেকে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত উত্তপ্ত এই জেলায় গত কয়েক বছরে একাধিক গোলমালের নজির থাকায় কমিশন এবার কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। পূর্ব মেদিনীপুরের পাশাপাশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শহর কলকাতাকেও। কলকাতা পুলিশ এলাকার অন্তর্গত বুথগুলির নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকছে ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।
কমিশনের এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য মূলত ‘স্পর্শকাতর’ বুথগুলি। প্রথম দফার নির্বাচনেও ব্যাপক নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। প্রথম দফায় মোট ২,৪০৭ কোম্পানি বাহিনী, যার মধ্যে সর্বাধিক ৩১৬ কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রেও একই পথে হেঁটে সংঘর্ষপ্রবণ এলাকাগুলিতে বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে।

প্রশাসনিক মহলের মতে, শুধুমাত্র বুথের ভেতর নয়, বুথ সংলগ্ন এলাকাতেও বাহিনীর সক্রিয়তা বাড়ানো হয়েছে। এরিয়া ডমিনেশন বা রুট মার্চের মাধ্যমে ভোটারদের মনোবল বাড়ানো এবং ভয়ের পরিবেশ কাটিয়ে তোলাই মূল উদ্দেশ্য। এর পাশাপাশি কুইক রেসপন্স টিমগুলিকে সতর্ক রাখা হয়েছে, যাতে যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। ভোট নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও জোর দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এখন দেখার, এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট কতটা শান্তিপূর্ণ হয়।

আরও পড়ুন – এটাই উত্তরপ্রদেশ, বিহার থেকে আসা ‘পরিবর্তন’: মমতাকে শাহর অশ্লীল সম্বোধনে তোপ অভিষেকের

_

_

_
_
_
_
