বিজেপির সুপরিকল্পিত চক্রান্তে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর প্রাণঘাতী হামলা! আর তারপর জনরোষের নামে মব লিঞ্চিংকে নরমালাইজ করার অপচেষ্টা! সত্যিই কি জনগণের ক্ষোভ নাকি বিজেপির দুষ্কৃতীদের গুন্ডামি?

সোনারপুরের ন্যক্কারজনক ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া দুষ্কৃতীদের তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ বলে মিথ্যা ন্যারেটিভ ছড়ানোর চেষ্টা চলছে জোরকদমে। অথচ অভিষেকের উপর হামলার ঘটনায় ছবি-ভিডিওতে ধরা পড়া কিছু দুষ্কৃতী যে সরাসরি বিজেপি-ঘনিষ্ঠ, সেই তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপির মিডিয়া। বিজেপি এবং তার ইকোসিস্টেম এই অপপ্রচার বা মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর দায় কোনওভাবেই এড়াতে পারে না।

শনিবার তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে সোনারপুর থানার পুলিশ। ভিডিও ফুটেজ দেখে তাঁদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ধৃতেরা হলেন আকাশ গায়েন, কাজল দাস, দেবাশিস দত্ত, তপন মাইতি এবং নির্মাল্য সেনগুপ্ত। আঘাত করা, বেআইনি ভাবে জমায়েত করা, পথ আটকানো, গালিগালাজ প্রভৃতি ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে আকাশ গায়েনকে বিজেপির মালপো মালব্যের আইটি সেল আর গোদি মিডিয়া তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ বলে মিথ্যা প্রচার করছে। কিন্তু তাঁকে যে বিজেপি নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছবি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আবার সোনারপুরে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে এই আকাশ গায়েনও যে পদ্ম-পতাকা নিয়ে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে গিয়েছিল, সেই প্রমাণও ভুলিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপির ইকোসিস্টেম। কিন্তু ছবি কথা বলে। কারণ, ছবির প্রমাণকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আকাশ গায়েন একজন বিজেপি কর্মী। পক্ষপাতদুষ্ট মিডিয়ায় গলাবাজি করে একটা মিথ্যাকে বারবার সত্যি বলে প্রচার করলেই তা সত্য হয়ে যায় না। আর মিডিয়ারও উচিত, জনবিরোধী বিজেপির প্রচার করা আখ্যান বা বয়ানগুলো যাচাই না করে তা আরও ছড়িয়ে দেওয়ার আগে আত্মদর্শন করা।

শুধু আকাশই নয়, শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় জনতার মধ্যে ছিলেন বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলাকারী উচ্ছৃঙ্খল দলে তাঁর কী ভূমিকা ছিল? তাঁকে সেখানে থাকার নির্দেশ কে দিয়েছিল? তাঁর আসল উদ্দেশ্য কী ছিল? রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় একজন সংসদ সদস্যের উপর প্রাণঘাতী হামলা এবং অশান্তি সৃষ্টিতে প্ররোচনার জন্য পুলিশ কি তাঁকে আদৌও গ্রেফতার করবে? বিজেপি নেতারা কি এখনও জবাবদিহিতা এড়িয়ে যাবেন? শনিবারের লজ্জাজনক ঘটনায় এমন কিছু মার্কামারা ব্যক্তিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে পাথর ছুঁড়তে দেখা গিয়েছে, তাঁর মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করতে দেখা গিয়েছে এবং তাঁর হেলমেট ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছে। তারা কেন এখনও প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে? তারা এখনও কেন গ্রেফতার হয়নি? অপরাধীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

আরও পড়ুন- দুর্যোগের জেরে থমকে গেল কেদারনাথ যাত্রা! নিরাপদ স্থানে সরানো হল পুণ্যার্থীদের

_

_

_
_
_
_
