Wednesday, May 13, 2026

গদ্দারের জন্য তৃণমূলের দরজা চিরতরে বন্ধ! দেগঙ্গার সভা থেকে হুঙ্কার অভিষেকের 

Date:

Share post:

বুধবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দেগঙ্গা বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী আনিসুর রহমানের সমর্থনে দেগঙ্গার বেনাপুর রোহিত ইটভাটা মাঠে দ্বিতীয় জনসভা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই জনসভা থেকে নাম না করে দেগঙ্গার আইএসএফ প্রার্থী মফিদুল হক সাহাজি ওরফে মিন্টুকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। বলেন, এই গদ্দারটার রাস্তা এবং দরজা তৃণমূলে চিরকালের মতো বন্ধ আজ আমি করে দিয়ে গেলাম আপনাদের সবাইকে সাক্ষী রেখে। অনেক জায়গায় মিথ্যে বলে বেড়াচ্ছে, মিথ্যে প্রচার করে বেড়াচ্ছে তৃণমূলের লোকেদের বলে বেড়াচ্ছে, তৃণমূলের সঙ্গে কথা হয়ে গেছে আমাকে জেতাও তারপর আমি তৃণমূলে যাব। যে বিজেপির সঙ্গে ডিল করে টাকা নিয়ে দাঁড়ায়, তাকে তৃণমূল দল থেকে বহিষ্কার করে তৃণমূল কোনও দিন দলে ফেরত নেবে না। আমরা বেইমানি করতে পারব না মানুষের সাথে।

এদিনের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আইএসএফকেও তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর কথায়, একটা ভোট আইএসএফকে দেওয়া মানে সরাসরি পদ্মফুলে নরেন্দ্র মোদিকে ভোট দেওয়া। অভিষেকের সংযোজন আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্ত্রকের নিরাপত্তা রক্ষীরা পাহারা দেয়। তাঁর বক্তব্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, যদি সত্যিই এতটুকু মনুষ্যত্ব থাকে, এতটুকু বিবেকবোধ থাকে, তাহলে আগে অমিত শাহের হোম মন্ত্রকের নিরাপত্তা ছেড়ে দিয়ে রাজ্য সরকারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রচারে নামুন। তারপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আর তৃণমূলকে আক্রমণ করবেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নওশাদ সিদ্দিকিকে নিরাপত্তা দিচ্ছে অমিত শাহের পুলিশ। কেন? ডিলটা কী? মানুষকে বোকা বানানো হচ্ছে। অভিষেক হুমায়ুন কবিরের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, হিন্দু-মুসলমান নয়, আমাদের বাঙালিকে বোকা বানানো খুব সোজা নয়। আর বাঙালি যদি একবার ঠিক করে নেয় যে জবাব দেবে, প্রতিরোধ, প্রতিশোধ, প্রতিবাদের রাস্তা বেছে নেবে।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, কেউ ভয় পাবেন না, আতঙ্কিত হবেন না, চিন্তা করবেন না। জ্ঞানেশ কুমার আর বিজেপি মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে বাংলা দখল করতে চেয়েছিল। আজকে বাংলা জুড়ে যত সমীক্ষা হয়েছে— এসআইআর করার পরেও দেখা যাচ্ছে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে চতুর্থবার তৃণমূল জিতছে। যতই হামলা হোক, আবার জিতবে বাংলা। মানুষ রায় দেবে, মানুষ তৃণমূলের সাথে ছিল, আছে, থাকবে। বিজেপিকে আক্রমণ করে তাঁর অভিযোগ, এরা বুঝে গেছে যে এসআইআর করেও লাভ হচ্ছে না, কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়েও হচ্ছে না, ইডি, সিবিআই দিয়েও হচ্ছে না, আদালত ব্যবহার করেও হচ্ছে না, সংবাদমাধ্যম ব্যবহার করেও হচ্ছে না, হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করেও হচ্ছে না, আইএসএফ, সিপিএম ও কংগ্রেসকে টাকা দিয়েও হচ্ছে না। কারণ মানুষ তৃণমূলের সাথে আছে। গণতন্ত্রে শেষ কথা মানুষ বলে, কোনও নেতা বা প্রধানমন্ত্রী নয়। এছাড়াও অভিষেক এই সভা থেকে দেগঙ্গার উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন এবং রিপোর্ট কার্ড তুলে ধরে বিরোধীদের চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দেন।

Related articles

বিদেশি খেলানো থেকে স্পনসর আনা, ঐতিহ্যের মোহনবাগানে আধুনিকতার দিশারী টুটু

মোহনবাগান এবং টুটু বোস (Tutu Bose), তিন দশকের বেশি সময়ে নাম দুটো সমার্থক হয়ে গিয়েছে। ঐতিহ্যের মোহনবাগান ক্লাবে...

ছাব্বিশের নির্বাচনে জয়ীদের আজ বিধানসভায় শপথগ্রহণ

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে সরকার গড়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। গত পঁচিশে...

জীবন যুদ্ধে হার মানলেন, টুটুহীন মোহনবাগান

লড়াই শেষ, জীবনযুদ্ধে হার মানলেন স্বপন সাধন বোস। ভারতীয় ফুটবলে যিনি পরিচিত টুটু(Tutu Bose) নামে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষনিঃশ্বাস...

বিরাট ধাক্কা আসতে চলেছে: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আশ্বাসের পরই সতর্ক করলেন শিল্পপতি

একদিকে দেশের প্রধানমন্ত্রী করোনা পরিস্থিতির মতো কাজে ফেরার বার্তা দিচ্ছেন। অন্যদিকে তাঁরই পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী কেন্দ্রের সরকারের জ্বালানি (fuel)...