মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) আশঙ্কাই সত্যি হল। নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন ইভিএম গোলযোগ নিয়ে। বৃহস্পতিবার সকালে তা অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল। রাজ্যের প্রথম দফা বিধানসভা নির্বাচনের সকাল থেকে জেলায় জেলায় ভোট মেশিন বিভ্রাটের খবর। কোথাও ভিভি প্যাড কাজ করছে না, তো কোথাও আবার একজনের ভোট চলে যাচ্ছে অন্য প্রতীকে। গরমে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ক্ষুব্ধ ভোটাররা। নির্বাচনী প্রচারে বারবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন সকলকে সতর্ক হতে বলেছিলেন, গণতান্ত্রিক উৎসব শুরু হতে দেখা গেল সেটাই সত্যি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সত্যিই কি ভোট কারচুপি করতে ইভিএমে (EVM) গলদ? প্রশ্ন এড়ালেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল (Manoj Agarwal)।

এদিন নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের বিরুলিয়াতে ইভিএম বিভ্রাটের খবর পাওয়া গিয়েছে।কোচবিহার টাউন হাই স্কুলের ২২৯ নম্বর বুথে ভোটগ্রহণে সমস্যা হয়। মুর্শিদাবাদের বড়ঞা বিধানসভার ১৫৬ নম্বর বুথ, পারসালিকা মদনমোহন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইভিএম লক হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। সামসেরগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের ২১২ নম্বর বুথেও ইভিএম ত্রুটির ত্রুটির কারণে নির্ধারিত সময়ের অনেকটা দেরিতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। মুর্শিদাবাদের কান্দি বিধানসভার ১৩০ নম্বর বুথেও একই সমস্যা হয়। একই ছবি বহরমপুর, মোথাবাড়িতেও। এই প্রসঙ্গে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নিজের দফতরে ঢোকার সময় বলেন, “খবর এসেছে। সব ঠিক হয়ে যাবে।” কিন্তু সমস্যা হল কেন? তাহলে এত আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে একাধিক নিয়ম নিষেধাজ্ঞা জারি করে সুষ্ঠু নির্বাচনের যে দাবি করেছিল কমিশন, কার্যক্ষেত্রে তার প্রতিফলন কই? উল্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে আশঙ্কা করেছিলেন সেটাই সত্যি হল। বিভিন্ন সভা মঞ্চ থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো বিজেপি ও কমিশনকে একযোগে নিশানা করে বলেছিলেন, ভোটে কারচুপি করার জন্য কোথাও ইভিএম মেশিন খারাপ থাকবে, কোথাও আবার লোডশেডিং করে দেওয়ার চেষ্টা হবে। সকলকে ভিভিপ্যাডে নিজের ভোট মিলিয়ে নেওয়ার অনুরোধও করেছিলেন তিনি। প্রথম দফার নির্বাচনে দেখা গেল, একের পর এক ভোট মেশিন বিকল হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগের শিকার হলেন সাধারণ মানুষ।
–

–

–

–

–

–
–
–
