রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথমদফার ভোটগ্রহণ হল বৃহস্পতিবার। আর সেদিন সন্ধেয় দলীয় প্রার্থীর হয়ে মেটিয়াবুরুজের কারবার পিঙ্ক স্কোয়ার থেকে তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “প্রথম দফার ভোটে আজকে বিজেপির দফারফা করে দিয়ে এসেছি।“

এদিন ভিড়েঠাসা প্রচারসভায় দাঁড়িয়ে অভিষেক (Abhishek Banerjee) বলেন, “এজেন্সিদের মাতব্বরি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর অত্যাচার প্রতিরোধ করতে আমি রাত তিনটে অব্দি জেগে। কর্মীরা যেমন বুথ রক্ষা করছেস তেমন আমিও অতন্দ্র প্রহরীদের মতো তাদের সঙ্গে জেগে কাজে সাহায্য করেছি। প্রথমদফার ভোটে আজকে বিজেপির দফারফা করে দিয়ে এসেছি।“ অভিষেক সাফ জানান, “যাঁদের লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হয়েছিল তাঁরাই আজ লাইনে দাঁড়িয়ে ওদের জামানত বাজেয়াপ্ত করেছে।“
অভিষেকের অভিযোগ, “একই কায়দায় ভোট চুরি করে এসআইআর করে হরিয়ানা, বিহার, দিল্লি, মহারাষ্ট্রে বিজেপি জিতেছে এবং বাংলায় একই কায়দায় দখল করতে চেয়েছিল কিন্তু আমরা হাতেনাতে ধরেছি।“

তৃণমূল সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে তৃণমূলের সেনাপতি জানান, “সিপিএম ৩৪ বছর ছিল, কংগ্রেস ১০ বছর ছিল। কোথায় তাদের রিপোর্ট কার্ড?“ যাঁদের না এবার বাদ গিয়েছে ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের আশ্বাস দিয়ে অভিষেক বলেন, “৪ তারিখ তৃণমূলে সরকার গঠিত হবে এবং এক মাসের মধ্যে ভোটার আইডি কার্ড আপনাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এটা আমাদের প্রতিশ্রুতি।“

বিজেপিকে (BJP) তীব্র কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, “ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম যদি অমিত শাহ হয়, তাহলে বাংলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম যত কেটেছো, ভোট তত বেড়েছে। আগামী দিনে ব্যবধান বাড়বে ভোটও বাড়বে। এই মেটিয়াবুরুজকে ব্যঙ্গ করে বলতো ‘মিনি পাকিস্তান’। দেশাত্মবোধ দেশের প্রতি ভালবাসা প্রমাণ করতে গেলে মানুষকে নরেন্দ্র মোদির কাছ থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে আসতে হবে না।“

মেটিয়াবুরুজের বাসিন্দাদের কাছে অভিষেকের আবদার, “ব্যবধানটা যেন এক লক্ষের বেশি হয়, এক লক্ষের নীচে না কমে। এটা আমার আবদার। আজকে অর্ধেক হয়ে গিয়েছে আর যেটুকু আছে তার দায়িত্ব আপনাদের আর বাকিটা তো আমি আছি। এখান থেকে তৃণমূল জিতবে এবং এক লাখের বেশি ভোটে জিতবে, কারও ক্ষমতা নেই তৃণমূলকে আটকাবে। বিজেপির সব আছে কিন্তু মানুষ নেই আর তৃণমূলের কিছু নেই কিন্তু মানুষ আছে। সিপিএমকে ভোট দেওয়া আর অন্য দলকে ভোট দেওয়া মানে সরাসরি বিজেপিকে ভোট দেওয়া।“

–

–
–
–
–
–
