বাংলার উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সঙ্গে পাল্লা দিতে ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে তত ফর্ম পূরণ করতে তৎপর হচ্ছে বিজেপির নেতারা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে মানুষকে ফর্ম পূরণ করতে বলছেন। যদিও বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে বারবার এই ফর্ম সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। কার্যত সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। বাংলার মানুষের আধার কার্ডের (Aadhaar card) তথ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে যে বিজেপি তার অপব্যবহার করছে তার প্রমাণ মিলল রায়গঞ্জে (Rayganj)। জঙ্গলের ধার থেকে মিলল গোছা গোছা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের (Annapurna Bhander) ফিলাপ করা ফর্ম (form)।

বুধবার রায়গঞ্জের উদয়পুর এলাকায় স্কুলের পাশের জঙ্গল থেকে পাওয়া গেল অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের পূরণ করা ফর্ম। এরপরই বিজেপির ‘মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’ পর্দা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ এলাকাবাসীদের। ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে বিজেপি-র বড়সড় কেলেঙ্কারি ফাঁস। নির্বাচনী বিধি ভেঙে বিজেপি যে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ (Annapurna Bhander) প্রকল্পের ফর্ম বিলি করছিল, সেই প্রকল্পেরই বেশ কিছু পূরণ করা ফর্ম উদ্ধার হল জঙ্গল থেকে। স্থানীয় মহিলাদের প্রশ্ন— তবে কি পুরোটাই ছিল ভোট পাওয়ার জন্য সাজানো নাটক?
বুধবার সকালে উদয়পুরের বাসিন্দারা লক্ষ্য করেন, জঙ্গলের ভেতর বেশ কিছু কাগজ পড়ে রয়েছে। কৌতূহলবশত গ্রামবাসীরা সেখানে গিয়ে দেখেন, সেগুলি আসলে বিজেপির প্রতিশ্রুত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের পূরণ করা ফর্ম। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ওই ফর্মগুলিতে উপভোক্তাদের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর এমনকি গোপনীয় আধার নম্বরও (Aadhaar number) লিপিবদ্ধ রয়েছে। সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংবলিত এই ফর্মগুলো এভাবে জঙ্গলে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকায় নিজেদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। জঙ্গল থেকে ফর্ম উদ্ধারের ঘটনায় স্তম্ভিত এলাকার মহিলারা। স্থানীয় বাসিন্দা লক্ষ্মী দাস ও জয়া সরকার ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, আমাদের স্বপ্ন দেখিয়ে ফর্ম ফিলাপ (form fillup) করানো হয়েছিল। এখন দেখছি সেগুলো আবর্জনার মতো জঙ্গলে পড়ে আছে। তাহলে কি এই প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি পুরোটাই মিথ্যে?

আরও পড়ুন : আরও কিছু পাওয়ার আশায়! ভোটের আগের রাতে দলবদল প্রাক্তন বিধায়কের

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেছেন রায়গঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী (TMC candidate) কৃষ্ণ কল্যাণী। তিনি সরাসরি একে বিজেপির ‘ভোট টানার ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছেন। কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন, বিজেপি কার্যকর্তারা নিজেরাও জানেন যে এই ফর্ম ফিলাপ করিয়ে তারা কোনো সুবিধা দিতে পারবেন না। এই সব ফর্ম কোথায় জমা দিতে হবে, তাও তাদের জানা নেই। তাই ভোট নেওয়ার ফন্দি শেষে এখন সেগুলো জঙ্গলে ফেলে দিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন এলেই বিজেপি মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এমন সস্তার প্রচার করে। এর আগেও সাধারণ মানুষকে অনেক কিছু পাওয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিলো । কিন্তু ধর্মের নাম করে শুধুই মিথ্যার রাজনীতি করে বিজেপি।

–

–

–
–
–
