বাংলার বড় অংশে নির্বাচন প্রথম দফাতেই হয়ে গিয়েছে। এরপর থেকেই দক্ষিণবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নির্বাচনের আগে বারবার বহিরাগতদের বাংলায় দেখা যাচ্ছে। সেই বহিরাগতদের দিয়ে ভোটে কারচুপির আশঙ্কা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের (Mamata Banerjee)। নির্বাচন কমিশন বজ্র আঁটুনির কথা বললেও আদতে সব বাঁধনই তাঁদের আলগা হয়ে যায় বিজেপির ক্ষেত্রে। ফলে কেন্দ্রের নেতাদের মদতে যে বহিরাগতদের (outsider) বাংলায় ঢুকিয়ে বিজেপি বাংলার ভোট লুট করার চেষ্টা করবে, তা নিয়ে হুগলির উত্তরপাড়ার (Uttarpara) নির্বাচনী জনসভা থেকে সতর্ক করে ক্যাম্প (camp) করার নির্দেশ দিলেন তৃণমূল নেত্রী।

যে সব এলাকায় নির্বাচন হয়ে গিয়েছে, সেখান থেকে যেখানে ২৯ এপ্রিল নির্বাচন, সেখানে লোক ঢোকানো নিয়ে সতর্ক করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নির্দেশ দেন, কল্যাণকে বলব আরামবাগে ভোট আছে। বাঁকুড়ায় ভোট হয়ে গিয়েছে। বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়াকে কাজে লাগিয়ে বলো। বড়জোড়া ওদিকটা ক্যাম্প করবে। ভবদীঘি, যেখানে রেলের তারকেশ্বর বিষ্ণুপুর লাইন আটকে গিয়েছিল। ওখানে ক্যাম্প (camp) করবে দুটো তিনটে। যাতে বাইরের গুণ্ডারা ঢুকতে না পারে। বহিরাগতরা (outsider) ঢুকতে না পারে।
বহিরাগত প্রবেশ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশঙ্কা সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে। তাই উত্তরপাড়ার সভা থেকে প্রতিটি জায়গায় নজরদারি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের নির্দেশ, প্রত্যেকটা জায়গায় আমি সবাইকে বলব যত হোটেল আছে, যত গেস্ট হাউস আছে, যাতে ধর্মের জায়গাগুলো আছে, এরা কিন্তু গেরুয়া কিনে গেরুয়া পড়ছে। আসল সাধু এরা নয়। নকল। চড়ক পুজোর দিন ৪০০ জনকে পাঠিয়েছিল, নতুন গেরুয়া পরে। হাতে নাতে ধরা হয়েছে। এবং বের করে দেওয়া হয়েছে। কারণ তারা বাংলার ভোটার নয়।

আরও পড়ুন : ‘আম জনতাকে’ ঠকাচ্ছেন হুমায়ুন! কবীরের দল ছেড়ে তৃণমূলে উলুবেড়িয়ার প্রার্থী

একদিকে বিজেপি বহিরাগত ঢুকিয়ে বাংলার ভোট লুটের পরিকল্পনা করেছে। অন্যদিকে কমিশনকে (ECI) দিয়ে তৃণমূলের সক্রিয় কর্মীদের আইন ভেঙে গ্রেফতারির ফন্দি করেছিল। যদিও তৃণমূল নেত্রীর নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টে লড়াই করে সেই নির্দেশ ভণ্ডুল করে দিয়েছেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। তাঁর ছেলে শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে উত্তরপাড়ায় প্রচারে গিয়ে তার জন্য কল্য়াণকে ধন্যবাদ জানান তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, কল্যাণকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আরেকটা। যত প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট করার প্ল্যান করেছিল। ১ হাজার ছেলেমেয়ের তালিকা দিয়েছিল। ও ওটা কোর্টে লড়াই করে, আমি ওকে বলেছিলাম। ফাইট করে ওটাকে স্টে করিয়েছে। সব আারেস্ট করতে হবে? তাহলে ভোটটা করবে কে?

–

–

–
–
–
