ভোট দিতে গিয়ে ‘কেন্দ্রীয় বাহিনীর সন্ত্রাসে’ মৃত্যু হয়েছিল হাওড়ার (Howrah) উদয়নারায়ণপুরের পূর্ণচন্দ্র দলুইয়ের (৮১)। বৃহস্পতিবার তাঁর ছেলে তরণী দলুই পেঁড়ো থানায় এই নিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন। তাঁর দাবি, পুলিশ প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগ দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। উলুবেড়িয়া মেডিক্যাল কলেজে বৃদ্ধের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। তদন্তের রিপোর্ট এলেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেই জানিয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে হাওড়ার জেলাশাসকের কাছে ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ চেয়ে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পরেই এই নিয়ে সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। স্যোশাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূল সেনাপতি বলেন, “ভোর থেকে এই কেন্দ্রীয় বাহিনী সাধারণ নাগরিকদের ওপর সন্ত্রাস চালাচ্ছে- মহিলাদের চড় মারছে, বয়স্কদের ওপর হামলা করছে, এমনকী শিশুদেরও আক্রমণ করছে।” আরও পড়ুন: ১৫ অগাস্ট ডেডলাইন: গাড়িচালকদের মারাঠি না জানা বেআইনি, দাবি মহারাষ্ট্রের মন্ত্রীর

বুধবার বলরামপুরের নিজের নির্দিষ্ট ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যান হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের কুরিট গ্রামের বাসিন্দা পূর্ণচন্দ্র দলুই। বৃদ্ধ একা হাঁটতে পারেন না। তাই তাঁর ছেলে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যান। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁদের ঢুকতে বাধা দেয়। একাধিকবার বাবাকে নিয়ে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করলেও বৃদ্ধকে একা যেতে বাধ্য করে কেন্দ্রীয় বাহিনী। শেষবার দুজনে ভোট দিতে চেষ্টা করলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁদের ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ। পড়ে যান পূর্ণচন্দ্র ও তাঁর ছেলে তরণী। এরপরই অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃদ্ধ। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিন তরণী বলেন, “বাবা অসুস্থ থাকায় আস্তে আস্তে আসছিলেন বুথ থেকে। একজন জওয়ান তাঁকে ধাক্কা দেন। আমি যদি সাথে থাকতাম অন্তত বাবাকে ভোট দেওয়ার পরে দ্রুত তাঁকে বের করে নিয়ে আসতে পারতাম। তাহলে তাঁকে আর জওয়ানের ধাক্কা খেত না। আর পড়ে যেতে হত না। আমি চাই প্রশাসন ওই জওয়ানকে উপযুক্ত শাস্তি দিক।” তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশন এখন বলছে বাবা অসুস্থ ছিলেন। তাহলে যদি জওয়ানরা ও নির্বাচন কমিশনের কর্মীরা এটা বুঝতে পেরেছিলেন তাহলে অসুস্থ ব্যক্তিকে সাহায্যের জন্য কেন আমাকে তাঁর সঙ্গে যাওয়ার অনুমতি দিল না? কেন তাঁরা একটু মানবিক হলেন না? কেন তাঁরা অসুস্থ ব্যক্তিকে একা যেতে বাধ্য করলেন?”
–

–

–

–

–

–
–
–
