আইসিএসই পরীক্ষার ফলে রাজ্যকে চমকে দিল বর্ধমানের সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের ছাত্রী নিপবীথি দত্ত। ৪৯৯ নম্বর পেয়ে রাজ্যের সম্ভাব্য প্রথম স্থানাধিকারী হিসেবে উঠে এসেছে তার নাম। শতাংশের বিচারে নিপবীথির প্রাপ্ত নম্বর ৯৯.৮। অভাবনীয় এই সাফল্যে খুশির হাওয়া বর্ধমান শহরজুড়ে।
ছোটবেলা থেকেই বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী নিপবীথি। তার মার্কশিটও সে কথাই বলছে। ইংরেজি সাহিত্য ও ভাষা— দু’টিতেই ১০০-য় ১০০ পেয়েছে সে। এ ছাড়াও রসায়ন, জীববিজ্ঞান, ইতিহাস এবং কম্পিউটারেও একশোয় একশো পেয়েছে নিপবীথি। পদার্থবিদ্যায় ৯৯ এবং ভূগোলে ৯৮ নম্বর এসেছে তার ঝুলিতে। এই বিপুল সাফল্যের পর নিপবীথি জানায়, রেজাল্ট ভালো হবে আশা ছিল, কিন্তু এতটা ভালো হবে তা সে ভাবতে পারেনি।
কেবল পাঠ্যবই নয়, নিপবীথির জগৎ জুড়ে রয়েছে গান, নাচ আর আঁকা। শৈশব থেকেই বাস্কেটবল, সাঁতার এবং আবৃত্তি চর্চায় নিজেকে যুক্ত রেখেছে সে। তবে সবথেকে বেশি নেশা গল্পের বই পড়ার। নিপবীথি জানায়, অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক বছরে সে গুনে গুনে ৪০টি গল্পের বই পড়েছিল। এখনও পড়ার ফাঁকে সময় পেলেই বই নিয়ে বসে পড়ে সে। ফেলুদা সিরিজ তার সবথেকে প্রিয়।
পড়াশোনার কোনো ধরাবাঁধা রুটিন ছিল না নিপবীথির। তবে নিয়ম মেনে চলত সে। প্রতিদিন রাত ৬টা থেকে ১০টা এবং স্কুল না থাকলে সকালে ৯টা থেকে ১টা পর্যন্ত পড়াশোনা করত নিপবীথি। বিজ্ঞানের ছাত্রী হয়েও তার প্রিয় বিষয় কিন্তু ইতিহাস। ভবিষ্যতে বিজ্ঞানের কোনো শাখায় পড়াশোনা করার ইচ্ছে থাকলেও, লক্ষ্য এখনও স্থির করেনি সে। নিপবীথির কথায়, ডাক্তার না ইঞ্জিনিয়ার হব তা এখনও ভাবিনি। এখন ভিত তৈরির সময়। আগামী দু’বছর আরও বেশি করে প্র্যাকটিস করতে চাই। মেয়ের এই সাফল্যে খুশি বাবা-মা ও স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও।
আরও পড়ুন- পুনর্নির্বাচন নিয়ে কড়া কমিশন! সশরীরে স্ক্রুটিনিতে পর্যবেক্ষক
_
_

_
_

_

_

