২০২৬-এর নির্বাচনে ২২৬টির বেশি আসনে জিতবে তৃণমূল। সংবাদমাধ্যম এক্সিট পোল উড়িয়ে দাবি তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। বিস্ফোরক অভিযোগ করে তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো বলেন, শেয়ার বাজার ধস নামবে বলে, গদি মিডিয়াকে টাকা দিয়ে ভুয়ো এক্সিট পোল করিয়েছে গেরুয়া শিবির। এইগুলিকে বিশ্বাস না করে, তৃণমূল নেতা-কর্মীদের স্ট্রং রুমে কড়া পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দেন দলনেত্রী।

বৃহস্পতিবার, নিজের স্যোশাল মিডিয়া (Social Media) পেজে, “আমরা মা-মাটি-মানুষের সরকার গঠন করছি। জয় বাংলা!” লিখে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেখানে তিনি বলেন, “এত রোদের মধ্যেও, এত অত্যাচার সহ্য করেও আপনারা যে ভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন, তাতে আমরা কৃতজ্ঞ। আমার কর্মীদের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ। ওঁরা প্রাণপণ লড়াই করেছে। অনেক অত্যাচার সহ্য করেছে। যাঁরা বাংলাকে জব্দ করতে চেয়েছিলেন, তাঁরা ভোটবাক্সে জব্দ হয়ে গিয়েছেন।“
আরও খবর: স্ট্রংরুম- গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি কমিশনের!
এক পরেই বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মমতা (Mamata Banerjee)। তাঁর কথায়, “আমি আপনাদের নিশ্চিন্ত করে বলতে চাই, যেটা টিভিতে দেখাচ্ছে, গতকাল বেলা ১টা ৮ মিনিটে বিজেপির অফিস থেকে সেই সার্কুলার জারি করা হয়েছে। টাকা দিয়ে বলা হয়েছে ওটা দেখাতে। জোর করে সংবাদমাধ্যমকে এটা করতে বাধ্য করা হয়েছে। আমরা ২২৬ ক্রস করব। ২৩০-ও পেয়ে যেতে পারি। মানুষ যে ভাবে ভোট দিয়েছেন, আমার পুরো ভরসা রয়েছে।“

তৃণমূল সভানেত্রীর দাবি, সত্যিটা প্রকাশ পেলে শেয়ার বাজারে ধস নামবে, সেটা আটকাতে বিজেপি টাকা দিয়ে এক্সিট পোল করিয়েছে। বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মমতা। তাঁর দাবি, “বিজেপি এত করেও মানুষের অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করতে পারল না। তাই সংবাদমাধ্যমকে দিয়ে ওরা শেষ খেলা খেলেছে। যাতে উল্টোপাল্টা বলে আমাদের কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়া যায়। আমার কাছে খবর আছে, শেয়ার মার্কেটকে সান্ত্বনা দিতে ওরা এটা করেছে।“

ভোটে বাহিনীর সন্ত্রাস প্রসঙ্গে তৃণমূল সভানেত্রী বলেন, “বিজেপি তো ইডি, সিবিআই সকলকেই চমকায়। কেন্দ্রীয় বাহিনী যে ব্যবহার গতকাল করেছে, নতুন যে সমস্ত পুলিশ নিযুক্ত হয়েছিলেন, যাঁরা আমার হাতে ছিলেন না, তাঁরা মেয়েদের মেরেছেন। বাচ্চাদের মেরেছেন। উদয়নারায়ণপুরে যে ভদ্রলোক ভোট দিতে গিয়ে মারা গেলেন, তাঁর শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানানোর ভাষা আমার নেই। ওই পরিবারের পাশে আমরা থাকব।“

মমতার অভিযোগ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সরাসরি হস্তক্ষেপে করছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও নিশানা করে মমতা বলেন, “ভোট চলাকালীন উনি বললেন কী করে বাংলাটা ওঁর? উনি কি বাংলাকে চেনেন? বাংলার মাটিকে চেনেন? কাউকে চেনেন না।“

কেন্দ্র উল্লেখ করে মমতা বলেন, “আমাদের কর্মীদের মেরেছে, যাতে তাঁরা এজেন্ট হিসাবে কাজ করতে না-পারেন। বিশেষ করে ভাটপাড়া, নোয়াপাড়া, জগদ্দল। আমাদের এখানে ভবানীপুরেও সারা রাত রেড হয়েছে। আমি দু’দিন ঘুমোইনি।“

এর পরেই দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তৃণমূল সভানেত্রীর বার্তা, “গণনাকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। দরকারে আমিও আমার এলাকায় পাহারা দিতে নামব। প্রার্থীরা নিজে পাহারা দিন। রাত জাগুন। আমি যদি পারি, আপনারাও পারবেন। কারণ, গণনাকেন্দ্রে ইভিএম নিয়ে যাওয়ার সময় যন্ত্র বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাই এটা অবহেলা করবেন না। আমি যত ক্ষণ সাংবাদিক বৈঠক করে না-বলব, তত ক্ষণ কেউ গণনার টেবিল ছাড়বেন না।“
মমতার স্পষ্ট নির্দেশ, “গণনার সময় ঠায় বসে থাকবেন কেন্দ্রে। কাউকে শৌচালয়ে যাওয়ার জন্য বা খাবার খাওয়ার জন্য উঠতে হলেও ২ মিনিটের বেশি নয়। এমন কাউকে ওই সময়ে বসিয়ে যাবেন, যিনি বিশ্বস্ত। টাকা দিয়ে যাঁকে কেনা যায় না।“
একই সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের শান্ত ও সংযত থাকার বার্তা দিয়ে দলনেত্রী বলেন, “ওরা হামলা করলেও আপনারা এক্ষুনি হামলায় যাবেন না। গতকালও অনেক মারধর করা হয়েছে। ভাঙড়ে আমার কর্মীদের যে ভাবে পেটানো হয়েছে, রক্তাক্ত করা হয়েছে, এর জবাব ওদের দিতেই হবে। কাউকে আইন হাতে তুলে নিতে হবে না। আমরা ব্যবস্থা করব। প্রশাসনকে অনুরোধ, গণনার সময় আমাদের ছেলের গায়ে বা কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মীর গায়ে হাত দেবেন না।“
দ্বিতীয়দফার ভোটগ্রহণের সময়সীমা পার হতেই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এক্সিট পোল (Exit Poll) প্রকাশ হয়েছে। বেশিরভাগ মিডিয়াই এগিয়ে রেখেছে বিজেপিকে। তা দেখে যাতে দলীয় কর্মীদের মনোবল ভেঙে না যায়, তার ভোকাল টনিক দিলেন দলনেত্রী।
