ফের বাংলার জয়জয়কার জাতীয় স্তরের মেধা তালিকায়। আইএসসি পরীক্ষায় ৯৯.৭৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে সারা দেশের সম্ভাব্য প্রথম স্থানাধিকারী হিসেবে নজির গড়ল বারাসাতের মেয়ে স্বেতাদাত্রী সাহা। অন্যদিকে শিলিগুড়ির হৃষী চৌবেও ৪০০-র মধ্যে ৪০০ নম্বর পেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। দুই ছাত্রীর এই অভাবনীয় সাফল্যে খুশির হাওয়া রাজ্য জুড়ে।

বারাসাত অক্সিলিয়াম কনভেন্ট স্কুলের ছাত্রী স্বেতাদাত্রীর মেধার পরিচয় মিলেছিল আইসিএসই পরীক্ষাতেই। সে বার ৯৭.৬ শতাংশ নম্বর পেলেও দ্বাদশের চূড়ান্ত পরীক্ষায় নিজের রেকর্ড নিজেই ভেঙে দিয়েছে সে। বারাসাতের ম্যাগ্নোলিয়া ফ্যান্টাসি আবাসনের বাসিন্দা স্বেতাদাত্রীর বাবা মনতোষ সাহা ব্যবসায়ী এবং মা মাধবী সন্নামার্ত এক কলেজ শিক্ষিকা। দিনরাত মিলিয়ে প্রায় ১২ ঘণ্টার কঠোর পরিশ্রমই এই সাফল্যের চাবিকাঠি বলে জানিয়েছে স্বেতাদাত্রী। তবে সাফল্যের কৃতিত্ব সে ভাগ করে নিয়েছে বাবা-মা, স্কুল এবং শিক্ষকদের সঙ্গে। তার লক্ষ্য সিভিল সার্ভিস। ভবিষ্যতে ইউপিএসসি পরীক্ষায় সফল হয়ে দেশের সেবা করতে চায় সে। মেয়ের সাফল্যে আবেগপ্রবণ বাবা জানালেন, ভাল ফলের আশা থাকলেও দেশের মধ্যে শীর্ষস্থান ভাবনার অতীত ছিল।
বাংলার মুকুটে অন্য পালকটি যুক্ত করেছে শিলিগুড়ির বাবুপাড়ার হৃষী চৌবে। প্রাপ্ত নম্বরের বিচারে সে পেয়েছে ৪০০-র মধ্যে ৪০০। ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মতো বিষয়ে ১০০-তে ১০০ নম্বর পেয়ে সকলকে চমকে দিয়েছে শিলিগুড়ি নির্মলা কনভেন্ট স্কুলের এই ছাত্রী। পেশায় বেসরকারি সংস্থার কর্মী শ্রীধর চৌবের কন্যা হৃষীও ভবিষ্যতে সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করতে চায়। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলোতেও যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে তার। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় হৃষীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, যা নিয়ে উচ্ছ্বসিত তার পরিবার।

দুই কৃতীরই বার্তা, পাঠ্যবইয়ের নির্দিষ্ট গণ্ডিতে নিজেকে আটকে না রেখে লক্ষ্য স্থির রেখে পড়াশোনা করলে যে কোনও কঠিন বাধাই অতিক্রম করা সম্ভব। এই দুই ছাত্রীর আকাশছোঁয়া সাফল্য আগামীর পরীক্ষার্থীদের কাছে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে রইল।

আরও পড়ুন – সিলড স্ট্রংরুমে ব্যালটের কাজ, নেই রাজনৈতিক প্রতিনিধি! তৃণমূলের প্রতিবাদে স্বচ্ছতার আশ্বাস

_

_

_
_
_
_
