ঘুষের মামলায় বাজেয়াপ্ত করা টাকা নাকি আর নেই। তদন্তকারীদের দাবি সেই টাকা উদরস্থ করেছে মুষিককুল। এমনই অদ্ভুত ব্যাখ্যা পেয়ে হতবাক সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ফলে সেই ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার মামলায় দোষী সাব্যস্ত সরকারি আধিকারিকের সাজা আপাতত স্থগিত রেখে তাঁকে জামিন দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আদালত জানায়, প্রমাণ হিসেবে রাখা টাকা যদি এভাবে নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে তা শুধু বিচারপ্রক্রিয়াকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে না, সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দেয়।

অভিযুক্ত কুমারী নামে ওই মহিলা শিশুকল্যাণ প্রকল্পের আধিকারিক (Child Welfare Project Officer) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে এবং তদন্তে সেই টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। প্রথমে নিম্ন আদালত তাঁকে বেকসুর খালাস দিলেও পরে পাটনা হাইকোর্ট (Patna High Court) সেই রায় খারিজ করে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত তাঁকে একটি ধারায় চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অন্য একটি ধারায় তিন বছরের জেলের নির্দেশ দেয়।
এরপর সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) আবেদন করেন ওই আধিকারিক। ২৪ এপ্রিল মামলার শুনানির সময় আদালতে জানানো হয়, বাজেয়াপ্ত করা ঘুষের টাকা আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ হিসেবে বলা হয়, সংরক্ষিত নোট ইঁদুরে কেটে নষ্ট করে দিয়েছে। এই বক্তব্য শুনে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, প্রমাণ সঠিকভাবে সংরক্ষণ না হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও ঘটতে পারে, যা সরকারের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বিচারব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করবে।

এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট আপাতত ওই মহিলা আধিকারিকের সাজা স্থগিত রেখে তাঁকে জামিন দিয়েছে। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। আগামী শুনানিতে এই বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিতভাবে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে আদালত।

–

–

–

–
–
–
