দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হচ্ছে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা। রাজ্যের জেলাশহরগুলি থেকে শুরু করে কলকাতার বিভিন্ন গণনা কেন্দ্রে একযোগে ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিট খুলে শুরু হবে ভাগ্য নির্ধারণ। দীর্ঘ প্রচার, রাজনৈতিক তরজা এবং অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের টানটান উত্তেজনার পর বাংলার মসনদে কে বসছেন, তার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে এই দিনই।

গণনা প্রক্রিয়াকে ঘিরে এবার নজিরবিহীন কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, প্রতিটি গণনা কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে কড়াকড়িভাবে কার্যকর থাকবে ভারতীয় ন্যায়সংহিতার ১৬৩ ধারা। ওই এলাকার মধ্যে কোনও রকম জমায়েত, বিক্ষোভ কিংবা অযাচিত ভিড় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য তৈরি করা হয়েছে তিন স্তরের নিশ্ছিদ্র বলয়। প্রথম স্তরে থাকছে লাঠিধারী পুলিশ ও সার্জেন্টরা, দ্বিতীয় স্তরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ মোতায়েন এবং তৃতীয় তথা মূল স্তরে থাকছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। এই ত্রিস্তরীয় বলয় পেরিয়েই একমাত্র অনুমোদিত ব্যক্তিদের গণনা কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি মিলবে।
নিরাপত্তার খাতিরে কড়াকড়ি থাকছে ব্যক্তিগত সরঞ্জামের ওপরেও। গণনাকর্মী, প্রার্থী ও কাউন্টিং এজেন্টদের সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। কেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি সিগারেট লাইটারও সঙ্গে রাখা যাবে না। পরিচয়পত্রের সত্যতা যাচাইয়ে এবার কিউআর কোড সংযুক্ত করা হয়েছে, যা স্ক্যান করার পরেই প্রবেশের ছাড়পত্র মিলবে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের আধিকারিকেরা নিয়মিত ফলাফল আপডেট দেবেন।

কমিশন জানিয়েছে, প্রথমে পোস্টাল ব্যালট এবং সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিট এনে গণনা শুরু হবে। গণনার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি টেবিলের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকবে। এবার ফল ঘোষণার ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। প্রতি রাউন্ডের গণনা শেষে ট্যাবুলেশন টেবিল থেকে যাচাই হওয়ার পর রিটার্নিং অফিসার এবং কাউন্টিং অবজার্ভারের সই ছাড়া কোনও ফল বাইরে জানানো যাবে না। অবজার্ভারের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই ফলাফল কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে।

ইতিমধ্যেই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর শীর্ষ কর্তারা নিরাপত্তা প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে বৈঠক সেরে ফেলেছেন। প্রতিটি গণনা কেন্দ্র ও তার সংলগ্ন এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে মুড়ে ফেলা হয়েছে। এখন শুধু ঘড়ির কাঁটা ঘোরার অপেক্ষা।

আরও পড়ুন – ফলাফল অসম বিধানসভা নির্বাচনের: হিমন্তের ‘ঘৃণা’য় রাশ টানার লড়াই বিরোধীদের

_

_
_
_
_
