একদিকে বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে ভাবী মুখ্যমন্ত্রী দাবি করছেন রাজ্যে বেকারদের চাকরি হবে। অন্যদিকে প্রতিবেশী বিজেপি শাসিত বিহারে চাকরি চেয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে লাঠিপেটা (lathi charge) জুটছে স্থানীয় চাকরিপ্রার্থীদের। শুক্রবার শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে বসা চাকরিপ্রার্থীদের লাঠি পেটা করল বিহার পুলিশ (Bihar police)। বাদ গেল না মহিলারাও। এই ঘটনায় সমালোচনায় বাধ্য হলেন বিহারের সম্রাট চৌধুরি (Samrat Choudhary) সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান (Chirag Paswan)।

বিহারের শিক্ষক নিয়োগের বিপিএসসি টিআরই-ফোর (BPSC TRE-4) পরীক্ষা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে নিয়োগের আশায় অপেক্ষা করছেন কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থী। তাঁদের দাবি, শিক্ষা মন্ত্রক থেকে এপ্রিলের শুরুতে জানানো হয়েছিল এপ্রিলের মাঝামাঝি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। কিন্তু মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সেই বিজ্ঞপ্তি (notification) জারি না হওয়ায় বিহারের বিজেপির সরকারের দিকে প্রশ্ন তুলে পথে নামার সিদ্ধান্ত নেয় চাকরিপ্রার্থীরা (job seekers)।
শুক্রবার পাটনা শহরের পাটনা কলেজ চত্বর থেকে প্রতিবাদ শুরু করে গোলম্বর পর্যন্ত কয়েক হাজার চাকরি প্রার্থী আন্দোলনে নামে। মিছিল করে গোলম্বরে পৌঁছালে পুলিশ মিছিল আটকায়। সেখানেই বসে শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি জানাচ্ছিলেন প্রতিবাদীরা। সেই সময়ই আচমকা জমায়েত সরাতে পুলিশ (Bihar police) লাঠিচার্জ (lathi charge) শুরু করে। বেশ কিছু চাকরিপ্রার্থীর মাথা ফাটে। লাঠির আঘাত লাগে মহিলা চাকরিপ্রার্থীদেরও (job seeker)। বহু চাকরিপ্রার্থী পালাতে গিয়ে আহতও হন।

স্বাভাবিকভাবে এই ঘটনায় প্রতিবাদে সরব হন আরজেডি বিধায়ক তেজস্বী যাদব (Tejaswi Yadav)। মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছেড়ে রাজ্যসভার সাংসদ পদ গ্রহণ করা নীতীশ কুমারের দিকে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তারপরই ছয়মাস মন্ত্রিসভা গঠন হয়ে গেলেও নিয়োগের পরীক্ষার কোনও পরিকল্পনা সরকারের নেই। কেন বিহারের যুব সমাজকে এত ঘৃণা এনডিএ-র সরকারে, প্রশ্ন তেজস্বীর।

আরও পড়ুন : দক্ষিণে জোটে জট: বিজয়ের সরকার গঠনে পাশে দাঁড়ালো কংগ্রেস, বাম!

এই ঘটনায় এনডিএ জোটসঙ্গী এলজেপি (LJP) সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ান (Chirag Paswan) বিহারের সম্রাট চৌধুরির সমালোচনায় সরব। একসময় যুব সমাজকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটে জেতা চিরাগের প্রশ্ন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে কেন এই লাঠিচার্জ। চাকরিপ্রার্থীরা যেখানে সরকারকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেখানে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা না করে তাঁদের ন্যায্য দাবিকে খণ্ডন করে দেওয়া হল।

–

–
–
–
