Wednesday, May 13, 2026

২০ মে সারাদেশে বন্ধ থাকবে ওষুধের দোকান! ধর্মঘটের ডাক AIOCD-এর

Date:

Share post:

২০ মে (বুধবার) দেশজুড়ে ওষুধ ধর্মঘটের ডাক দিল অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস (AIOCD)। এই ধর্মঘটে সামিল হতে চলেছেন দেশের প্রায় ১২.৪ লক্ষ ওষুধ বিক্রেতা ও ডিস্ট্রিবিউটর। যার জেরে সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছনোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মূলত অনলাইন ফার্মেসি বা ই-ফার্মেসির অনিয়ন্ত্রিত বাড়াবাড়ি এবং সরকারের এই উদাসীনতার প্রতিবাদে ‘ন্যাশনাল ফার্মেসি বনধ’-এর ডাক দেওয়া হয়েছে। AIOCD-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রোগীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের অভিযোগগুলি হলো:

১) সঠিক ভাবে প্রেসক্রিপশন যাচাই না করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো ওষুধ দিয়ে দিচ্ছে। ফলে এই ওষুধ বারবার কেনার সম্ভাবনা থাকছে। যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
২) অভিযোগ, AI দিয়ে প্রেসক্রিপশন জাল করে অনলাইনে অ্যান্টিবায়োটিক এবং নেশাজাতীয় ওষুধ খুব সহজেই কিনে ফেলা যাচ্ছে। এর ফলে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) কমে যাচ্ছে। যাতে জীবনের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।
৩) সংগঠনের দাবি, বড় বড় কর্পোরেট সংস্থা গুলো অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে বিশাল পরিমাণ ছাড় দিয়ে ব্যবসা করছে। বিভিন্ন জীবনদায়ী ওষুধের সরকার নির্ধারিত দামের পরেও ২০% থেকে ৬০% পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে। ফলে এই ধরনের ‘প্রিডেটরি প্রাইসিং’ সাধারণ ছোট দোকানদারদের রুজি-রুটির ওপর আঘাত হানছে।
৪) ভারতের গ্রামাঞ্চলে প্রায় ৬০% জায়গায় কোনও ভাল ডাক্তার নেই, সেখানে স্থানীয় ওষুধের দোকানগুলোই মানুষের প্রাথমিক ভরসা। ই-ফার্মেসির প্রসারে এই ছোট দোকানগুলো বন্ধ হয়ে গেলে গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।
৫) বর্তমান ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্টে অনলাইন ফার্মেসির কোনও স্পষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। সরকার ই-ফার্মেসি সংক্রান্ত যে খসড়া নিয়ম (Draft Rules) এনেছে, তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। আরও পড়ুন: সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির ফলপ্রকাশ, পাশের হার কমল ৩.১৯ %

সংগঠনের পক্ষ থেকে সভাপতি জগন্নাথ এস. শিণ্ডে এবং সাধারণ সম্পাদক রাজীব সিংঘল জানিয়েছেন, সরকার যদি ২০ মে-র মধ্যে তাঁদের দাবি নিয়ে কোনও পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আগামী দিনে তাঁরা অনির্দিষ্টকালীন ধর্মঘটের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন। তাঁদের প্রধান দাবি হল ই-ফার্মেসি সংক্রান্ত খসড়া নিয়মগুলি (GSR 817E ও GSR 220E) অবিলম্বে প্রত্যাহার করা এবং অফলাইন দোকানদারদের জন্য একটি সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র (Level playing field) তৈরি করা।

Related articles

দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’: অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্তে CBI-কে নিতে হবে না রাজ্যের অনুমতি, ছাড়পত্র মুখ্যমন্ত্রীর

দুর্নীতিতে তাঁর সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিচ্ছে- নির্বাচনী প্রচারপর্বে এই আশ্বাস দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Subhendu Adhikari)। ক্ষমতায় এসেই...

জোর করে ভাড়াটে ঢোকানোর অভিযোগ, গ্রেফতার বরাহনগরের তৃণমূল কাউন্সিলার

গ্রেফতার করা হল বরাহনগর পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস (TMC Councillor Arrested) কাউন্সিলার শান্তনু মজুমদার (Shantanu Majumdar)...

রেশনে আর আটা সরবরাহ নয়, নতুন সরকার গঠন হতেই ঘোষণা খাদ্যমন্ত্রীর 

বাংলায় পরিবর্তনের জেরে সরকার গড়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন অশোক কীর্তনীয়া (Ashoke Kirtania)। এবার...

ঝড়-বৃষ্টির দুর্যোগ কাটিয়ে রাজ্যে বাড়ছে তাপমাত্রা!

কালবৈশাখীর আমেজ এখন অতীত, ভরা গ্রীষ্মের মরশুমে উষ্ণতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রাজ্যের সব জেলায়। কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গে হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস...