২০ মে (বুধবার) দেশজুড়ে ওষুধ ধর্মঘটের ডাক দিল অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অফ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস (AIOCD)। এই ধর্মঘটে সামিল হতে চলেছেন দেশের প্রায় ১২.৪ লক্ষ ওষুধ বিক্রেতা ও ডিস্ট্রিবিউটর। যার জেরে সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছনোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মূলত অনলাইন ফার্মেসি বা ই-ফার্মেসির অনিয়ন্ত্রিত বাড়াবাড়ি এবং সরকারের এই উদাসীনতার প্রতিবাদে ‘ন্যাশনাল ফার্মেসি বনধ’-এর ডাক দেওয়া হয়েছে। AIOCD-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রোগীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের অভিযোগগুলি হলো:
১) সঠিক ভাবে প্রেসক্রিপশন যাচাই না করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো ওষুধ দিয়ে দিচ্ছে। ফলে এই ওষুধ বারবার কেনার সম্ভাবনা থাকছে। যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
২) অভিযোগ, AI দিয়ে প্রেসক্রিপশন জাল করে অনলাইনে অ্যান্টিবায়োটিক এবং নেশাজাতীয় ওষুধ খুব সহজেই কিনে ফেলা যাচ্ছে। এর ফলে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) কমে যাচ্ছে। যাতে জীবনের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।
৩) সংগঠনের দাবি, বড় বড় কর্পোরেট সংস্থা গুলো অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে বিশাল পরিমাণ ছাড় দিয়ে ব্যবসা করছে। বিভিন্ন জীবনদায়ী ওষুধের সরকার নির্ধারিত দামের পরেও ২০% থেকে ৬০% পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে। ফলে এই ধরনের ‘প্রিডেটরি প্রাইসিং’ সাধারণ ছোট দোকানদারদের রুজি-রুটির ওপর আঘাত হানছে।
৪) ভারতের গ্রামাঞ্চলে প্রায় ৬০% জায়গায় কোনও ভাল ডাক্তার নেই, সেখানে স্থানীয় ওষুধের দোকানগুলোই মানুষের প্রাথমিক ভরসা। ই-ফার্মেসির প্রসারে এই ছোট দোকানগুলো বন্ধ হয়ে গেলে গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।
৫) বর্তমান ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্টে অনলাইন ফার্মেসির কোনও স্পষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। সরকার ই-ফার্মেসি সংক্রান্ত যে খসড়া নিয়ম (Draft Rules) এনেছে, তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। আরও পড়ুন: সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির ফলপ্রকাশ, পাশের হার কমল ৩.১৯ %

সংগঠনের পক্ষ থেকে সভাপতি জগন্নাথ এস. শিণ্ডে এবং সাধারণ সম্পাদক রাজীব সিংঘল জানিয়েছেন, সরকার যদি ২০ মে-র মধ্যে তাঁদের দাবি নিয়ে কোনও পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আগামী দিনে তাঁরা অনির্দিষ্টকালীন ধর্মঘটের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন। তাঁদের প্রধান দাবি হল ই-ফার্মেসি সংক্রান্ত খসড়া নিয়মগুলি (GSR 817E ও GSR 220E) অবিলম্বে প্রত্যাহার করা এবং অফলাইন দোকানদারদের জন্য একটি সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র (Level playing field) তৈরি করা।

–

–

–

–

–
–
–
