ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আগেই। সেই মতোই বুধবার নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসন ছেড়ে বানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবেই শপথ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Subhendu Adhikari)। এদিন, বিধানসভায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণ পর্বে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় (Tapas Ray)। বিধানসভা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু জানান, সংবিধানিক রীতি মেনে তিনি নন্দীগ্রামের (Nandigram) বিধায়ক পদ ছাড়লেও, ভোটের আগে তিনি এলাকার মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, রাজ্যের অন্যান্য জায়গার পাশাপাশি নন্দীগ্রামেও সেই উন্নয়ন হবে।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election) নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— দু’টি কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু (Subhendu Adhikari)। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, দু’টি আসনের মধ্যে একটি ছাড়তেই হত তাঁকে। শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভবানীপুর (Bhawanipur) কেন্দ্রকেই ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। ফলে নন্দীগ্রাম আসনে উপনির্বাচন অনিবার্য। এদিন বিধানসভা ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি গয় মুখ্যমন্ত্রী জানান, সংবিধানিক রীতি মেনে তাঁকে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছাড়তে হল। তবে, তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষকে শুভেন্দুর প্রতিশ্রুতি, আগামী ৫ বছর নন্দীগ্রামের মানুষ বুঝতে পারবেন না যে তিনি বিধায়ক হিসেবে নেই। যিনিই বিধায়ক হোন না কেন ভোটের আগে এলাকার মানুষকে শুভেন্দু যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, রাজ্যের অন্যান্য জায়গার পাশাপাশি নন্দীগ্রামেও সেই উন্নয়ন হবে।

২০১৬ সাল থেকে নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। প্রথমে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন তিনি। পরে দলবদল করে বিজেপিতে যোগ দেন এবং ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জাতীয় স্তরেও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন। যদিও, কারচুপির অভিযোগ করে সেই ফল নিয়ে আদালতে মামলা করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— দু’টি কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রামে তিনি প্রায় ৯ হাজার ৬৬৫ ভোটে জয়ী হন। পাশাপাশি ভবানীপুরেও তৃণমূল প্রার্থীকে পরাজিত করেন তিনি। তবে একই সঙ্গে দু’টি কেন্দ্রের বিধায়ক থাকা সম্ভব নয় বলেই নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন ছাড়তে হল তাঁকে।

রাজনৈতিক মহলে এখন জোর জল্পনা, নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী কে হবেন। জেলা বিজেপি সূত্রে ইতিমধ্যেই একাধিক নাম ঘোরাফেরা করছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক তথা শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ মেহনাদ পালের নাম। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত শাসকদলের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু ঘোষণা করা হয়নি।
আরও খবর: জ্বালানি সাশ্রয়ে কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমালেন প্রধানমন্ত্রী, একই সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুরও

একই রকম ভাবে রেজিনগর ও নওদা বিধানসভা আসনে যুগ্মভাবে বিজয়ী আমজনতা উন্নয়ন পার্টি নেতা হুমায়ুন কবীর রেজিনগর আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় ওই আসনটিতেও উপনির্বাচন হবে। সেখানে ছেলেকে প্রার্থী করবেন বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন।

–

–
–
–
