বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড়োসড়ো যোগদান কর্মসূচি চালিয়েছিল বিজেপি। তবে নির্বাচন পরবর্তীতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। একদিকে নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় কোনোভাবেই বিজেপির নাম খারাপ হোক, চায় না কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় নেতৃত্ব। সেই সঙ্গে নতুন করে বিজেপিতে যোগদান (BJP joining) নিয়ে যে সিদ্ধান্ত রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) দাবি করেছিলেন, তাকেই মান্যতা দিলেন রাজ্যের মুখ্য পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল (Sunil Bansal)।
নির্বাচনের ফলাফল বেরোনোর পর একাধিক বৈঠক রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে প্রথমবার রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক জেলার সঙ্গে বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল। শুক্রবার এই বৈঠকে বিজেপির ৪৩ টি সাংগঠনিক জেলার (organisational district) নেতৃত্ব যোগ দেন বৈঠকে। আর সেখানেই দলের তরফে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেন বনসল।

ঠিক যেভাবে নির্বাচনের পরে কোনওরকম হিংসার সঙ্গে যাতে বিজেপি কর্মীরা যুক্ত না হন, তা নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, একই সুর সুনীল বনসলের (Sunil Bansal) গলায়। নির্দেশ দেন রাজ্য বিজেপির কোনও কর্মী হিংসার সঙ্গে যুক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হবে। অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনে সেই কর্মীকে দল থেকে বরখাস্ত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সেই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয় বিজেপিতে যোগদান নিয়ে। আগামী তিন মাস বিজেপিতে কোনও যোগদান হবে না ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শমীক। সেই নীতিতেই মান্যতা বনসলের। জানানো হয়েছে, দলে তিন মাস কোনওরকম যোগদান (BJP joining) কর্মসূচি হবে না। পরবর্তীতে সব দিক খতিয়ে দেখে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন : ভোট-পরবর্তী হিংসা থেকে বিরোধীদের ভাষণ- বিধানসভায় নানা ইস্যুতে শাসক-বিরোধী বাগ্যুদ্ধ

একদিকে বিজেপির তৈরি করে দেওয়া নির্বাচনী ইশতাহার (BJP manifesto) মেনে রাজ্য পরিচালনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikary)। যেখানে শুধুমাত্র বাংলার জন্য আলাদাভাবে একাধিক সিদ্ধান্তকে মান্যতা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্যের সংগঠন পরিচালনাতেও রাজ্য নেতৃতের উপর আস্থা প্রকাশ করে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিল, দলের রাশ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে হাতে যেমন থাকছে, তেমনই রাজ্য নেতৃত্বকেও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার।

–

–
–
–
