কালীঘাটের বৈঠকে পদ হারিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (TMC MP Kakoli Ghosh Dastidar)। ‘পুরস্কার’ পেয়েছেন বলে জানালেন বারাসতের সাংসদ। তাঁর পোস্টে অনুযোগ এবং হতাশার সুর রয়েছে।
বৃহস্পতিবার তৃণমূল সাংসদদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banarjee)। সেখানেই লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক পদ থেকে কাকলিকে সরানো হয়েছে। সেই পদে নিয়ে আসা হয়েছে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তারপরেই শুক্রবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলেন কাকলি। তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গে দীর্ঘ সংগ্রামের অতীত মনে করিয়ে চারবারের সাংসদ কাকলি লিখলেন, “৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথ চলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরষ্কৃত হলাম।”

১৯৭৬ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ছাত্র পরিষদের নেত্রী, তখন একইসঙ্গে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনে যুক্ত ছিলেন কাকলিও ( Kakoli Ghosh Dastidar)। তিনি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ছাত্র রাজনীতি করতেন, মমতা ছিলেন যোগমায়া দেবী কলেজে। সেই সময়েই কাকলির সঙ্গে মমতার পরিচয় হয়েছিল। এর পর ১৯৮৪ সালে মমতা যাদবপুর থেকে প্রথম ভোটে লড়েন এবং সিপিএম নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে পরাস্ত করেন। দীর্ঘ দিন ধরে রাজনীতির পথে মমতার সঙ্গে রয়েছেন কাকলি।

চব্বিশের লোকসভা ভোটে বিয়াল্লিশের মধ্যে ২৯ টি আসন জয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদীয় দল সাজিয়ে দিয়েছিলেন। মুখ্য সচেতক করা হয়েছিল বর্ষীয়ান সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। লোকসভার দলনেতা ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ২০২৫ সালে সংসদীয় দলে রদবদল করা হয়। দলনেতার দায়িত্ব পান ডায়মন্ড হারবারের তিনবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্য সচেতক পদে কল্যাণের পদে বসানো হয় বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর ফের কাকলিকে সরিয়ে কল্যাণকে ওই পদে আনা হল, তাতেই ক্ষুব্ধ কাকলি।

–

–

–

–
–
–
