Thursday, June 25, 2026

১৫ লক্ষ কোটি টাকার কারচুপি! সেবির কোপে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সংস্থা রাজেশ এক্সপোর্টস 

Date:

Share post:

এবার নজিরবিহীন আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে কাঠগড়ায় বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক সোনা পরিশোধন ও রফতানিকারী জায়ান্ট ‘রাজেশ এক্সপোর্টস’। গত ৩ জুন জারি করা একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (সেবি) ওই সংস্থা এবং তার প্রোমোটার-চেয়ারম্যান রাজেশ মেহতার উপর শেয়ারবাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

সেবির অভিযোগ, বিগত পাঁচটি অর্থবর্ষ জুড়ে নিজেদের খাতায় ব্যাপক কারচুপি করেছে এই স্বর্ণ রফতানিকারী সংস্থা। এর মধ্যে প্রায় ১৫.১৫ লক্ষ কোটি টাকার ঘোষিত আয়ের হিসাবও রয়েছে। টাকার এই বিপুল অঙ্ক কার্যত চমকে দেওয়ার মতো, যা বিশ্বের অনেক দেশের বার্ষিক অর্থনৈতিক উৎপাদন বা জিডিপির চেয়েও বেশি বলে দাবি করেছে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এই অভিযোগ সামনে আসতেই দালাল স্ট্রিটে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে কর্পোরেট তথ্য প্রকাশ, অডিটর বা নিরীক্ষকদের তদারকি এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিয়ে।

তবে সেবির এই নির্দেশ আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন। পুরো বিষয়টি নিয়ে এখনও বিস্তারিত তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে এবং চূড়ান্ত ফলাফল আসতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। রাজেশ এক্সপোর্টস এবং রাজেশ মেহতার কাছে আত্মপক্ষ সমর্থনের এবং অভিযোগগুলির জবাব দেওয়ার আইনি অধিকার রয়েছে। তবে অভিযোগ যদি শেষ পর্যন্ত সত্য বলে প্রমাণিত হয়, তবে এর পরিণতি অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিপুল আর্থিক জরিমানা, অর্জিত লভ্যাংশ বা মুনাফা বাজেয়াপ্তকরণ থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি বাজার নিষেধাজ্ঞা এবং আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল ২০২৪ সালের ১১ মার্চ, যখন সেবির কাছে ওই সংস্থারই এক অংশীদার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে বকেয়া থাকা এক অস্বাভাবিক বড় অঙ্কের বাণিজ্যিক পাওনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। এই ধরনের বিপুল বকেয়া দেনা সাধারণত বড়সড় হিসাবরক্ষণের অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সেবি বিস্তারিত তদন্তে নামে এবং ২০২৪ সালের অক্টোবরে একটি তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ নিয়োগ করে। পরবর্তীতে সংস্থার যাবতীয় নথিপত্র এবং আর্থিক তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করার জন্য ‘ফরেনসিক অডিটর বিডিও’-কেও নিযুক্ত করা হয়।

রাজেশ এক্সপোর্টসের এই সংকটের আঁচ কিন্তু শুধু প্রোমোটারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন দেশের লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ। জানা গিয়েছে, এই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার অন্যতম বড় অংশীদার হল এলআইসি। রাজেশ এক্সপোর্টসে এলআইসি-র প্রায় ১০.৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। যেহেতু জীবনবিমা সংস্থার এই বিনিয়োগের সিংহভাগই আসে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত প্রদেয় প্রিমিয়াম থেকে, তাই এই ধাক্কা পরোক্ষভাবে আমজনতাকেই ছুঁয়ে যাচ্ছে। সেবির প্রাথমিক অনুমান, এই আর্থিক জালিয়াতির জেরে জীবনবিমা সংস্থার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। ওয়ানাড়ের মতো সংস্থার এই বিপুল লোকসান দেশের মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ে টান ফেলবে কিনা, এখন সেটাই সবথেকে বড় আশঙ্কার বিষয়।

আরও পড়ুন – ঋতব্রতর বহিষ্কার বৈধ নয়: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের পাশে নিয়ে কেন বললেন স্পিকার রথীন্দ্র বসু!

_

 

_

 

_

 

_

 

_

Related articles

তারাতলার ঘটনা আপনাদের পাপের ফল, নাম করে ফিরহাদকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর 

কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মান গোডাউন বিপর্যয়ের (Taratala Disaster) ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার...

তারাতলার দুর্ঘটনায় আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা PMO-র

কলকাতার তারাতলার (Taratala, Kolkata) দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা PMO-র। বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে...

তারাতলার দুর্ঘটনায় মৃত বেড়ে ৯ ! গ্রেফতার পাঁচ, ধ্বংসস্তূপে নীচে এখনও আটকে একাধিক

তারাতলার দুর্ঘটনাস্থলে (Taratala Disaster) রাতভর উদ্ধার কাজের পর সকালেও স্লিফার ডগ দিয়ে তল্লাশি চলছে। এখনও পর্যন্ত মোট ৯...

জোড়া ভূমিকম্পে বেসামাল ভেনেজুয়েলা, লক্ষাধিক মৃত্যুর আশঙ্কা!

৩৯ সেকেন্ডের মধ্যে পরপর দুবার ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা (Earthquakes strike Venezuela)। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার...