শুক্রবার মধ্যরাতের হানায় রাজ্যের নানা প্রান্তে ধৃত ২ তৃণমূল নেতা-সহ ৩। বেআইনি অস্ত্র রাখা-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে গ্রেফাতার তৃণমূল (TMC) নেতা তথা ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাসের (Pareshram Das) নিজের দাদা উত্তম দাস (Uttam Das)। তিনি নিজে ক্যানিং (Canning) ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। শুক্রবার গভীর রাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরও সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ (Police)। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার জেরে ক্যানিংয়ে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তমের বিরুদ্ধে বেআইনি অস্ত্র রাখা-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সন্ধেয় ক্যানিং এলাকায় ব্যাপক অশান্তি হয়। গুলি চলে বলেও অভিযোগ। সেই গোলমালে এক বিজেপি (BJP) কর্মী গুরুতর জখম হন। ওই হামলার নেপথ্যে উত্তম দাসের (Uttam Das) হাত ছিল বলে অভিযোগ পুলিশের। পাশাপাশি, তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের ভয় দেখানো এবং হুমকি দেওয়া-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বেআইনি অস্ত্র আইন, মারধর, অপরাধমূলক প্ররোচনা ও হুমকির মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় ধৃতের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে ক্যানিং থানার পুলিশ। নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতেই শুক্রবার রাতে ক্যানিং থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথভাবে উত্তম দাসের বাড়িতে হানা দেয় বলে প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়েছে। গ্রেফতারির সময় পুলিশের কাজে প্রবল বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

তবে, ধৃত নেতার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ, কোনও প্ররোচনা ছাড়াই গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে উত্তমকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। বাধা দিলে বাড়ির মহিলা সদস্যদেরও পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা বেধড়ক লাঠি পেটা করে বলে অভিযোগ।

ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশরাম দাস। তাঁক কথায়, শুক্রবার মাঝরাতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী অন্যায়ভাবে তাঁর উত্তম দাসের বাড়িতে হানা দিয়ে তাঁকে থানায় নিয়ে যায়। ঘরের মা-বোনেদের উপরও অত্যাচার চালানো হয় বলে অভিযোগ বিধয়কের। তিনি বলেন, কোনও অভিযোগ থাকলে সকালে পুলিশ তাঁকে ডেকে পাঠাতে পারত। কিন্তু গভীর রাতে বাড়ি ঘেরাও করে যেভাবে মহিলাদের মারধর ও হেনস্থা করা হল, তা সম্পূর্ণ গণতন্ত্রের পরিপন্থী। উত্তমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন পরেশরাম।

এর পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমানের অণ্ডালেও শুক্রবার রাতে খনি অঞ্চল থেকে তোলাবাজির অভিযোগে অণ্ডাল ব্লক তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি কাঞ্চন মিত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, কয়লার ডেলিভারি অর্ডার পাইয়ে দেওয়ার নাম করে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল টাকা তোলাবাজি করতেন তিনি। অণ্ডাল ও সংলগ্ন এলাকায় বেআইনি জমি কারবারের সঙ্গেও তাঁর যোগ ছিল বলে অভিযোগ।

অণ্ডালে শুক্রবার রাতের এই অভিযানে কাঞ্চন মিত্রের পাশাপাশি মহম্মদ মোজাম্মেল নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, কাঞ্চনের সঙ্গে মোজাম্মেলও বেআইনি কয়লা ও জমির কারবারে সমান অংশীদার ছিলেন।

–

–
–
–
