স্বাধীনতার পর দেশের বিধানসভা নির্বাচনের ইতিহাসে ভোটদানের হারে এক নতুন নজির গড়ল পশ্চিমবঙ্গ। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে মোট ভোটদানের হার ছুঁয়েছে ৯৩.৭১ শতাংশ। এর আগে দেশের কোনও রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে এত বিপুল পরিমাণ ভোট পড়েনি।
এতদিন এই সর্বকালীন রেকর্ডটি ছিল প্রতিবেশী রাজ্য ত্রিপুরার দখলে। ২০১৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল ৯৩.৬১ শতাংশ। দীর্ঘ তেরো বছর পর সেই রেকর্ড ভেঙে এবার প্রথম স্থানে উঠে এল পশ্চিমবঙ্গ। কমিশনের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, সর্বাধিক ভোটদানের নিরিখে প্রথম দশের মধ্যে উত্তর-পূর্বের রাজ্য ত্রিপুরা, মণিপুর এবং নাগাল্যান্ড একাধিকবার জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু এবার সমস্ত রেকর্ড ছাপিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম তুলে নিল পশ্চিমবঙ্গ।

পরিসংখ্যানের তালিকায় দেখা যাচ্ছে, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ২০১৩ সালের ত্রিপুরা নির্বাচন (৯৩.৬১ শতাংশ) এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে ২০০৮ সালের ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচন (৯২.৪৯ শতাংশ)। এ ছাড়া ১৯৯৩ এবং ২০১৩ সালের নাগাল্যান্ড নির্বাচনেও ভোটদানের হার ছিল ৯১ শতাংশের বেশি। মণিপুরের একাধিক বিধানসভা নির্বাচনও শতাংশের নিরিখে এই তালিকার প্রথম সারিতে রয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের পুদুচেরি বিধানসভা নির্বাচনেও ভোটদানের হার ছিল ৮৯.৮৭ শতাংশ, যা সর্বোচ্চ ভোটদানের তালিকায় অন্যতম উল্লেখ্য স্থান পেয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এরাজ্যের রাজনৈতিক সচেতনতাই আমজনতাকে বুথমুখী করেছে। কমিশনের ব্যাপক প্রচার ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণেও মানুষ নির্বিঘ্নে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন। ভোট নিয়ে টানটান উত্তেজনার মধ্যেই ভোটদানের এই ঐতিহাসিক হার আগামী দিনেও এক বড় নজির হয়ে থাকবে।

আরও পড়ুন – আরবে ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল-চুক্তি মোদির: কোন পথে আসবে, প্রশ্ন অর্থনীতিবিদদের

_

_

_
_
_
_
