Friday, June 26, 2026

কোটি টাকার হাতঘড়ি থেকে রহস্যময় ডায়েরি, শান্তনু-জয়ের ‘যোগসূত্র’ নিয়ে বিস্ফোরক ইডি

Date:

Share post:

প্রমোটার, পুলিশ এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা— এই তিন শক্তির মেলবন্ধনেই কি চলত জমি দখল আর বেআইনি নির্মাণের রমরমা সিন্ডিকেট? রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলা এক জমি কেলেঙ্কারি মামলার তদন্তে নেমে এবার তেমনই এক বিস্ফোরক ‘ত্রয়ী নেক্সাস’ বা চক্রের হদিস মেলার দাবি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই চক্রের অন্যতম পান্ডা শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে দেওয়া উপহারের তালিকায় রয়েছে কোটি টাকার বিলাসবহুল হাতঘড়িও।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি শান্তনুর বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে একাধিক মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, জয় কামদার নামে এক ব্যক্তি শান্তনু এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের এই সমস্ত বহুমূল্য উপহার পাঠাতেন। সেই উপহারের সূত্র ধরেই হদিস মিলেছে কোটি টাকার হাতঘড়ির। শুধু উপহারের আদানপ্রদানই নয়, জোর করে জমি দখল এবং বেআইনি নির্মাণের সিন্ডিকেট রাজ নির্বিঘ্নে চালাতে শান্তনু একাধিক মোবাইল ও ভুয়ো সিম কার্ড ব্যবহার করতেন বলেও জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।

কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, এই সিন্ডিকেটের জাল ছড়িয়েছিল কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদ পর্যন্ত। মুর্শিদাবাদের কান্দির বাসিন্দা দোয়াত এসকে নামে এক ব্যক্তির সংস্থার সঙ্গেও শান্তনুর সরাসরি আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। শান্তনু এবং দোয়াত এসকে-র ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দফায় দফায় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা জমা পড়েছিল বলে দাবি ইডির। এমনকি, মুর্শিদাবাদে শান্তনুর বাসস্থান সংস্কার করার জন্য প্রায় আড়াই কোটি টাকার একটি গোপন রফা বা ‘ডিল’ হয়েছিল এবং সেই টাকা মেটানোও হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, এই বিপুল আর্থিক লেনদেনের পর তথ্যপ্রমাণ লোপাট করতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন অভিযুক্তরা। শান্তনু এবং জয়ের মোবাইল ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, তাঁদের টেক্সট কনভারশনে ‘ডিলিট করুন’ শব্দবন্ধটির ওপর বারবার জোর দেওয়া হয়েছিল। জয় কামদারই শান্তনুকে লেনদেন সংক্রান্ত সমস্ত মেসেজ মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে ইডির দাবি। তবে শেষরক্ষা হয়নি। জয় কামদারের ফোন থেকে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ক্লু উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। তাঁর ফোনে একাধিক নম্বর ‘শান্তনু দা’ কিংবা ‘শান্তনু স্যর’ নামে সেভ করা ছিল। এমনকি শান্তনুর পরিবারের সদস্যদের নম্বরও একই ভাবে সেভ করা ছিল। ইডির দাবি, এই শান্তনু দা বা শান্তনু স্যর আসলে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসই। শুধু ফোনেই নয়, জয়ের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ডায়েরিতেও ‘শান্তনু দা’ নামে একাধিক আর্থিক লেনদেনের হিসাবের নোট লেখা রয়েছে।

ইডি আধিকারিকদের দাবি, এই ডায়েরি এবং ফোনের তথ্যই প্রমাণ করে যে দুজনের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। প্রমোটারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তুলে তা স্থানীয় থানার একাংশ, এলাকার কাউন্সিলর এবং রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে ভাগাভাগি করা হতো। এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত এবং এই কোটি টাকার হাতঘড়ির নেপথ্যে আর কোন কোন রাঘববোয়াল লুকিয়ে আছেন, তা জানতে ধৃতদের আরও জেরা করতে চাইছে ইডি।

আরও পড়ুন- সবুজ সঙ্কেত নবান্নের! কেন্দ্রেরই হাতে যাচ্ছে উত্তরবঙ্গ ও সীমান্তের সাতটি জাতীয় সড়ক

_

_

_

_

_

Related articles

শহিদ দিবসের কর্মসূচি ঘোষণা, কংগ্রেসের নিশানায় মনীশ গুপ্ত

বিগত কয়েক দশকে ২১ জুলাই ধর্মতলায় শহিদ তপর্ণ ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তি প্রর্দশনের মঞ্চ। কংগ্রেস পৃথকভাবে মহাজাতি সদনে...

অন্যায়ের সঙ্গে কোনও আপস নয়, স্পষ্ট বার্তা মমতার

অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপস না করে প্রতিবাদের বার্তা দিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banarjee)ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা...

‘ল্যান্ড-লাভ জিহাদ’ রুখতে কঠিন পরিকল্পনার কথা শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী

চৈতন্যদেব, নেতাজি, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মাটিতে রাষ্ট্রবিরোধীদের কোনও জায়গা নেই। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের এক দেশ, এক প্রধান, এক বিধান, এক...

UCC-র মাধ্যমে রাজ্যে মেরুকরণের প্রচেষ্টা বিজেপির! বিরোধিতায় সরব তৃণমূল

আগামী সোমবার রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা UCC) সংক্রান্ত বিল পেশ হবে। বিধানসভা...