রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও জনমোহিনী প্রকল্পের চেনা বৃত্ত থেকে বেরোতে পারছে না নতুন সরকার। ক্ষমতায় আসার আগে যারা রাজ্যের তৎকালীন শাসকদলের বিভিন্ন সামাজিক ভাতা ও প্রকল্পকে ‘খয়রাতি’ বলে তীব্র কটাক্ষ করতেন, আজ সরকার চালাতে গিয়ে তারাও সেই একই পথে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর ধাঁচেই নতুন সরকার নিয়ে এসেছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’। এই প্রেক্ষিতেই এবার কড়া আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, এতদিন যারা ‘ভাতার সরকার’ বলে বিদ্রুপ করতেন, তারা আজ হাড়ে-মজ্জায় টের পাচ্ছেন বাংলার সাধারণ মানুষের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কতটা দূরদর্শী ভাবনা ভেবেছিলেন।
কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ— রাজ্যের প্রতিটি কোণায় দুয়ারে সরকার, স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রী, রূপশ্রীর মতো প্রায় ১০০টি জনমুখী প্রকল্প পৌঁছে দিয়েছিল বিগত সরকার। তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, কেন্দ্রের বঞ্চনা ও আর্থিক বরাদ্দ আটকে রাখার পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও প্রকল্প বন্ধ হতে দেননি। এবার নতুন সরকারও সেই তৈরি পরিকাঠামো ও জনমুখী নীতির ভিতের ওপর দাঁড়িয়েই নিজেদের প্রকল্পের ঢাক পেটাচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তৃণমূলের বিধায়ক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়েই নতুন সরকার এখন মানুষকে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এতে নতুনত্ব বা মৌলিকত্ব কিচ্ছু নেই। তবে যাঁরা এতদিন ভাতা নিয়ে প্রতিনিয়ত বিদ্রুপ ও কুৎসা করতেন, তাঁরা এখন কোন মুখে এই সব প্রকল্প আনছেন? কুণালের সংযোজন, নারীশক্তিকে সম্মান জানাতে বাংলায় যতগুলি প্রকল্প মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করেছিলেন, দেশের কোথাও তার কাছাকাছি উদাহরণ নেই।

তৎকালীন বিরোধী শিবিরের ‘ভাতা চাই না, চাকরি চাই’ স্লোগানকে মনে করিয়ে দিয়ে কুণাল এদিন বলেন, যাঁরা আজ এত বড় বড় কথা বলছেন, তাঁরা তো শেষমেশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো পথেই হাঁটছেন। তার মানে আজ প্রমাণিত হয়ে গেল যে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ভুল ছিল না। দিল্লির সরকার ইডি-সিবিআই বা রাষ্ট্রশক্তির অপপ্রয়োগ করে বাংলার কোটি কোটি টাকার প্রাপ্য আটকে রেখেছিল, তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাতার পরিমাণ আরও বাড়াতে পারেননি, তাঁর হাত-পা বাঁধা ছিল। কিন্তু পিছিয়ে পড়া শ্রেণি ও মহিলাদের প্রতি তাঁর যে নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল, আজ নতুন সরকার তাতেই মান্যতা দিতে বাধ্য হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বাংলায় ক্ষমতায় টিকে থাকতে গেলে বা জনভিত্তি ধরে রাখতে গেলে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিকে বাদ দেওয়া যে অসম্ভব, তা নয়া সরকারও বুঝে গিয়েছে। আর সেই কারণেই ভোটের আগে ভাতার বিরোধিতা করলেও, গদিতে বসেই সেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর অনুকরণে নাম বদলে নতুন ভাণ্ডার গড়তে হচ্ছে বর্তমান শাসকদলকে।

আরও পড়ুন – সরকারি খরচে রাশ টানতে কড়া নবান্ন, দফতরগুলিকে একগুচ্ছ নির্দেশিকা মুখ্যসচিবের

_

_
_
_
_
