ভোপালে ত্বিষা শর্মার (Twisha Sharma death) মৃত্যুতে তদন্ত যতই এগোচ্ছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। ত্বিষার পরিবারের দাবি, তাঁদের মেয়েকে ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে খুন করেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। যদিও এখনও পর্যন্ত পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, এটিকে আত্মহত্যা বলেই মনে করা হচ্ছে। অবশ্য শ্বশুরবাড়ির লোকজন দাবি করেছিল ত্বিষা মাদকাসক্ত। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মেলেনি মাদকের হদিশ।
উত্তরপ্রদেশের নয়ডার বাসিন্দা ত্বিষা শর্মা(৩৩)। উচ্চশিক্ষিত এই তরুণী বিয়ের পাঁচ মাস আগেও ‘মিস পুনে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভোপালের আইনজীবী সমর্থ সিংকে বিয়ে করেন তিনি। শাশুড়ি গিরিবালা সিং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তার পাঁচ মাস পর, মঙ্গলবার রাতে পরিবার ত্বিষার মৃত্যুর খবর পায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। কিন্তু তাঁর বাপের বাড়ির লোকজন শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলে। আরও পড়ুন: অভিষেকের সম্পত্তি সম্পর্কিত খবর মিথ্যা, মনগড়া ও ভিত্তিহীন! বিবৃতি তৃণমূলের

অন্যদিকে ত্বিষার শাশুড়ি গিরিবালার দাবি করেন, ত্বিষা নাকি মাদকাসক্ত ছিলেন। কয়েক দিন আগে জানতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা। অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেও ত্বিষা মাদক সেবন করতেন। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অন্য। ভোপালের পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় কুমার জানিয়েছেন, ত্বিষার শরীরে কোনও ধরনের মাদক পাওয়া যায়নি। তাঁর কথায়, “ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে এটা স্পষ্ট, ঘটনাটি হত্যা নয়, আত্মহত্যা। গলায় ফাঁসের চিহ্নও সেই কথাই বলছে।” তবে ত্বিষার পরিবার ময়নাতদন্তের রিপোর্টে সন্তুষ্ট নয়। তাঁদের অভিযোগ, তদন্তে গাফিলতি রয়েছে। ত্বিষা আত্মহত্যার জন্য যে বেল্ট ব্যবহার করেছিলেন, তা নাকি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, আত্মহত্যায় ব্যবহৃত বস্তু ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের হাতে দেওয়া উচিত ছিল, যাতে গলার দাগের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়। কিন্তু সেই বেল্ট ময়নাতদন্তে কেন পাঠান হল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা। ফের ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ত্বিষার মা-বাবা।

–

–

–

–

–
–
–
