বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে যে ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্টের কথা বলে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ, এবার সেই আইন কার্যকর করে বাংলা থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের (infiltrators) বাংলাদেশে পাঠাতে রাজ্য পুলিশকে নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সাত ধর্মের মানুষ বাদ দিয়ে বাকিদের রাজ্য পুলিশ ও বিএসএফ-এর (BSF) সমন্বয়ের মাধ্যমে এই কাজ হবে বলে বুধবার বিএসএফ-এর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে ঘোষণা বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর (CM, West Bengal)।
অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে নিজেদের দেশে পাঠানো নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য দ্বন্দ্বের অবসান করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আমাদের ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ১৪.০৫.২০২৫ – অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী (Bangladeshi infiltrators) তাদের সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে হস্তান্তর করার জন্য ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছিল। আজ থেকে আমরা এই আইন কার্যকর করলাম।

একদিকে রাজ্য ও দেশের জনবিন্যাসে পরিবর্তনের যে ইস্যু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকে তুলেছিলেন সেই ইস্যুতে নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফেরৎ পাঠানো নিয়ে জরুরি ঘোষণা বুধবার নবান্ন থেকে করা হল। অন্যদিকে, বৈধ নাগরিকদের চিহ্নিতকরণের এসআইআর (SIR) পদ্ধতির পরে এবার শরণার্থীদের (refugee) নাগরিকত্ব দেওয়ার পথ খুলল বলে দাবি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর।

তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে দেশবিরোধী কাজ, আইন শৃঙ্খলাজনিত অপরাধ, লাভ জিহাদ, ল্যান্ড জিহাদ, বল পূর্বক ধর্ম পরিবর্তন এবং বিশেষ করে নারী, শিশুকন্যাদের নিরাপত্তার প্রশ্নে যে অসামাজিক কাজের বৃদ্ধি লক্ষ্য করেছি। বিভিন্ন সময়ে তার সঙ্গে যুক্ত যারা অন্য রাজ্য ও এই রাজ্যে ধরা পড়েছে, তার একটা বড় অংশ বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী।

এবার সেই পরিস্থিতি থেকে রাজ্য ও দেশকে নিরাপত্তা দিতে রাজ্য যে পদক্ষেপ গ্রহণ করল, তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর (CM, West Bengal) ঘোষণা, সিএএ-র (CAA) আওতায় যারা নেই তারা সম্পূর্ণ অনুপ্রবেশকারী (infiltrators)। তাদের সরাসরি রাজ্য পুলিশ গ্রেফতার করবে। হস্তান্তরিত করবে বিএসএফ-এর হাতে। বিএসএফ (BSF) বিডিআর-এর সঙ্গে কথা বলে তাদের ডিপোর্ট করার ব্যবস্থা করবে। অর্থাৎ ডিটেক্ট ডিলিট ডিপোর্ট আইন কার্যকর করা হল।

আরও পড়ুন : প্রতিশ্রুতি মতো জমি হস্তান্তর শুরু: BSF-কে ২৭ কিমি জমি দেওয়ার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

এই পদক্ষেপের মধ্যেই থাকছে বৈধ নাগরিক চিহ্নিতকরণের মধ্যে দিয়ে নাগরিকত্ব দেওয়ার আইনের প্রণয়ন। মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও ঘোষণা করেন, সিএএ-র অন্তর্ভুক্ত অর্থাৎ সাতটি ধর্ম পালন করা যারা, তাঁরা নাগরিকত্বের আওতায় আসবেন। যারা ৩১.১২.২০২৪ পর্যন্ত এসেছেন তাঁদের পুলিশ কোনও হেনস্থা করতে পারবে না।

–
–
–
