মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দিল্লিতে থাকায় সোমবারের নির্দিষ্ট জনতার দরবার আয়োজন করা হয়নি চলতি সপ্তাহে। কিন্তু মানুষ তাঁদের অভিযোগ নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার বিরাট আবেদন জমা পড়েছিল। তাই শনিবার সেই জনতার দরবারের আয়োজন করা হয় বিজেপির সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে (BJP party office)। সেই কর্মসূচিতে এবার মুখ্যমন্ত্রীর সামনে সরকারি হাসপাতালের থ্রেট কালচার নিয়ে সরব এক নিহত চিকিৎসকের পরিবার। সন্তানের মৃত্যুর তদন্তে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা (police inaction) নিয়েও অভিযোগ জানান তাঁরা।

বর্ধমান ডেন্টাল মেডিক্যাল কলেজের হাউস সার্জেন ছিলেন অমর্ত্য ঘোষাল। ২০২৪ সালে তাঁর মৃত্য়ু হয়। যে মৃত্যুকে তাঁর পরিবার হাসপাতালের থ্রেট কালচারের (threat culture) শিকার বলে দাবি করেন। হাসপাতালের কাছেই তাঁর মৃত্য়ু হলেও তাকে গাড়ি দুর্ঘটনা বলে পরিবারকে জানায় পুলিশ, এমনও অভিযোগ করে তাঁর পরিবার। পুলিশের বিরুদ্ধে মৃত চিকিৎসকের মায়ের অভিযোগ, পুলিশ কোনও সহযোগিতা করেনি। দুর্ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সাতদিন পরে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে ২৭ দিন পরে। পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এসডিপিও সকলের কাছে দরবার করা হয়েছে। ওনারা বলেছেন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট করতে চার্জ লাগে। এই কথা পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন বলেছিলেন। আমার যাওয়ার কিছু হয়নি। কারণ আমরা জানি পুলিশও যুক্ত।

আদতে বর্ধমান ডেন্টাল মেডিক্যাল কলেজে থ্রেট কালচারের শিকারই হয়েছিলেন সার্জেন অমর্ত্য ঘোষাল, এমনটাই দাবি করেন তাঁর মা। তিনি নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, থ্রেট কালচার (threat culture) বর্ধমান ডেন্টাল কলেজে। আব্দুল রব। তৃণমূলের নেতা। সবকিছু ম্য়ানেজ করে। জোর গলায় বলেছিলএখান থেকে পিন থেকে শুরু করে সব আমার আন্ডারে। শনিবার মুখ্যমন্ত্রীকে তিনি গোটা বিষয়টি জানান। ঘটনায় কলকাতা হাই কোর্টে চলা মামলার বিষয়টিও তুলে ধরেন তাঁর পরিবার, যেখানে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে সুবিচারের আশ্বাস দেন বলে জানা যায়।

আরও পড়ুন : নবান্নে শুদ্ধিকরণ পর্ব? ফাইলের থেকে গুরুত্ব পাচ্ছে গঙ্গাজল

এদিন আরও এক সন্তানহারা পরিবার জনতার দরবারে উপস্থিত হয়। কলকাতার মহাঋষি বিদ্যামন্দির স্কুলে তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়ার মৃত্যুতে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) দ্বারস্থ হন পড়ুয়ার পরিবার। আরও এক শিশুর মা সন্তানের চিকিৎসার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন। মুখের টিউমারে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসার খরচ নিজের কাঁধে তুলে নেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে।

–

–

–
–
–
