Site Logo

এবার কি হাতছাড়া প্রতীক 'জোড়া ফুল'! 'তৃণমূল কংগ্রেস' নাম কাদের? স্পষ্ট নির্দেশ আছে আইনে

EBBS Desk·
এবার কি হাতছাড়া প্রতীক 'জোড়া ফুল'! 'তৃণমূল কংগ্রেস' নাম কাদের? স্পষ্ট নির্দেশ আছে আইনে

দলে ফাটল। বিদ্রোহীদের তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে "আমরাই আসল তৃণমূল" বলে দাবি করে বহিষ্কৃত বিধায়ক বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee), সন্দীপন সাহারা (Sandipan Saha) এখন দলের অনুমোদিত নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক কব্জা করার চেষ্টায় আছেন বলে সূত্রের খবর। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সেটা কি আদৌ সম্ভব? 'তৃণমূল কংগ্রেস' এই নাম এবং 'জোড়া ফুল' প্রতীক এটা কি বিরোধী ব্লকের দিকে যেতে পারে? আইন কি বলছে? এ বিষয়ে ইতিহাসে কিন্তু বহু উদাহরণ রয়েছে। তবে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস কর গুপ্তের (Debashis Kar Gupta) কথায়, পুরো বিষয়টাই নির্ভর করছে সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপর।

Sponsored

Sranchi In Article

ক্ষমতা চলে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) হাতের বাইরে দলের রাশ। তৃণমূলের (TMC) প্রতীকে জয়ী ৮০ জনের মধ্যে ৬০ জন বিধায়কই এখন বিদ্রোহী। রাজ্যসভা থেকে তৃণমূল সাংসদরা পদত্যাগ করছেন। আর লোকসভায় তাঁরা আলাদা ব্লক তৈরি করে ফেলেছেন। এবার কি প্রতীকচিহ্ন (Symbol) হাতছাড়া হওয়ার পালা? এটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন। দেবাশিস কর গুপ্ত বলেন, “যে কোনও সংসদীয় দলের দুটো ভাগ- একটা আইনসভা ও আরেক সংগঠন। প্রথমটিতে রয়েছেন বিধায়ক, সাংসদরা। দ্বিতীয়টিতে যাঁরা সাংগঠনিক কাজে যুক্ত তাঁরা। এখন নির্বাচন কমিশন প্রতীক তাঁদেরকেই দেব, যাঁদের দিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে।"

Sponsored

Merlin In Article

আর যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারণ করা না যায়? প্রাক্তন বিচারপতি জানান, সে ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করে উভয়পক্ষকেই নতুন প্রতীক দিতে পারে। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে। সেখানে এর মীমাংসা হতে পারে, যেমন হয়েছিল মহারাষ্ট্রে।

Sponsored

Shyam Sundar In Article

২০২২ সালে মহারাষ্ট্রে শিবসেনা থেকে উদ্ধব ঠাকরকে ছেড়ে একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বে দুই তৃতীয়াংশের বেশি বিধায়ক বেরিয়ে গিয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশনে আবেদন করলে বিদ্রোহী শিবিরকেই আসল শিবসেনা ঘোষণা করা হয়। শিবসেনার 'তির-ধনুক' প্রতীকও পায় শিন্ডে গোষ্ঠী। বালাসাহেব ঠাকরের তৈরি দল ও তার দলীয় প্রতীক- দু'ই হাতছাড়া হয় ঠাকরে পরিবারের।

Sponsored

Camelia In Article

মিজোরামের প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল বিশ্বজিৎ দেব বলেন, "মাননীয় স্পিকার যদি বিদ্রোহীদের বিরোধী দলের স্বীকৃতি দেন, তারা যদি নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission) দেখাতে পারে- অধিকাংশ বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে আছেন, তাহলে কিন্তু প্রতীকচিহ্ন তাঁরাই পাবেন। ঋতব্রত প্রতীকচিহ্ন পাবেন। জোড়াফুল প্রতীক মমতার আর থাকবে না।"

Sponsored

Techno India In Article

এই পরিস্থিতির সঙ্গে বারবার তুলনা চলে আসছে ইন্দিরা গান্ধীর আমলের। ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবির পরে নতুল দল তৈরি করে কমিশনের কাছে 'গাই-বাছুর' প্রতীকচিহ্ন চেয়ে আবেদন করেন ইন্দিরা। কিন্তু নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, ওই প্রতীকচিহ্ন কংগ্রেসের কোনও গোষ্ঠীকেই দেওয়া হবে না। ইন্দিরা সুপ্রিম কোর্টে যান। কিন্তু শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ করেনি। শেষ পর্যন্ত ১৯৭৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ইন্দিরা-গোষ্ঠীকে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস (আই) হিসাবে স্বীকৃতি দেয় নির্বাচন কমিশন। দলের নতুন প্রতীকচিহ্ন হয় 'হাত'। 'গাই বাছুর' প্রতীকের অস্তিত্ব মুছে যায়। 'জোড়াফুল' প্রতীকের পরিণতিও কি সেরকমই হবে? ভোট-রাজনীতি থেকে মুছে যাবে ঘাসের উপর 'জোড়াফুল' প্রতীকচিহ্নটি? তৃণমূল দলের পাশাপাশি এখন প্রতীক সংকট নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

Sponsored

Probe In Article

Related Articles

More from রাজ্য

View All →