পুরপ্রশাসক বসিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়ার দিন শেষ, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই হাওড়া পুরসভার (Howrah Municipal Election) ভোট করানোর ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার বেলুড় মঠ থেকে সোজা হাওড়ায় প্রশাসনিক বৈঠকে যান মুখ্যমন্ত্রী। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, সব দুর্নীতির তদন্ত হবে। শুধু পুরভোট নয়, ওয়ার্ড ডিলিমিটেশনের কাজও হবে। ইতিমধ্যেই কো-অমিনেশন কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হাওড়া পুরসভায় ১৭০০ অস্থায়ী কর্মী কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে ৫০০ জন কোনও কাজ না করে বেতন নেন। সেই তদন্তও হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘আগের ওয়ার্ক কালচার ভুলে যান, মানসিকতা বদলাতে হবে। মানুষকে পরিষেবা দিন।’
হাওড়া জেলা জুড়ে মূলত নিকাশি ব্যবস্থার সমস্যা বহুদিনের। অপরিশ্রুত পানীয় জল থেকে একাধিক নাগরিক পরিষেবা না মেলায় ক্ষুব্ধ জেলার বাসিন্দারা। রাজ্যে সরকার বদল হতেই এবার সেই অভিযোগ ঘুচিয়ে সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ করতে চলেছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য ১৩ বছর আগে হাওড়ায় শেষ পুরভোট হয়েছিল। এদিন মূলত হাওড়া শহরের সামগ্রিক উন্নয়ন ও পুর পরিষেবা নিয়ে আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কয়েকটি বিষয়কে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যার মধ্যে রয়েছে পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করা, এলাকায় নিয়মিত সাফাই কাজ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি, পুর স্বাস্থ্যপরিসেবা সহ অন্যান্য পরিষেবার দিকে নজর রাখা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যতক্ষণ না নির্বাচিত পুর বোর্ড আসছে, ততদিন কোঅর্ডিনেশন কমিটি (coordination committee) পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়গুলি দেখবে এবং জেলাশাসক ও পুর নগরোন্নয়ন দফতরের সচিবকে রিপোর্ট করবে। ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্বিন্যাস করে ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন নির্বাচিত পুর বোর্ডের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদী শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)।

বৃহস্পতিবার অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট জানান, ”কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছি, এবার থেকে হাওড়া স্টেশনে কোনও অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে আর আদালতে পেশ করা হবে না। খাইয়ে-দাইয়ে সোজা বনগাঁ দিয়ে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে।”

–

–

–

–

–
–
