দীর্ঘ ৫২ বছরের দাম্পত্য জীবন। চার সন্তানের বিয়ে হয়ে গিয়েছে, ঘরে এসেছে নাতি-নাতনিও। কিন্তু জীবনের এই সায়াহ্নে এসে ফের একবার বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হলো জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের চারবারের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায়কে। পাত্রী অবশ্য নতুন কেউ নন, তাঁরই সহধর্মিণী প্রতিমা রায়। তবে কোনো আবেগ বা নিছক প্রচারের আলোয় আসার জন্য নয়, প্রাক্তন বিধায়কের এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে আইনি সমস্যা। বিধানসভার পেনশন এবং অন্যান্য চিকিৎসা সংক্রান্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে ৭৫ বছর বয়সে এসে আইন মেনে রেজিস্ট্রি ম্যারেজ সারলেন এই প্রবীণ নেতা।
খগেশ্বর জানান, এটি তাঁর জীবনের তৃতীয় বিয়ে। ১৯৭৪ সালের ১৭ এপ্রিল প্রতিমা রায়ের সঙ্গে সামাজিক নিয়মনীতি মেনে প্রথমবার বিয়ে হয় তাঁর। এরপর ২০২৪ সালে বিয়ের ৫০ বছর পূর্তি বাড়ির ছোটদের আবদার রাখতে ফের মালাবদল করেন এই দম্পতি। আর এবার ৫২তম বিবাহবার্ষিকীতে এসে খাতায়-কলমে আইনি সিলমোহর দিলেন নিজেদের সম্পর্কে। তৃণমূল বিধায়ক জানান, “সংসার চালাতে পেনশনের প্রয়োজন। সামাজিক বিয়ের কোনো সরকারি নথি না থাকায় বিধানসভার নিয়ম মেনে রেজিস্ট্রি করতে বাধ্য হলাম।” আরও পড়ুন: পুলিশ কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবে যে কে অনুপ্রবেশকারী? প্রশ্ন তুলে সরব হলেন সাকেত

২০০৯ সালের উপনির্বাচনে রাজগঞ্জ কেন্দ্র থেকে প্রথমবার বিধায়ক হন খগেশ্বর রায়। এরপর ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ সালের ভোটেও টানা জয়ী হন তিনি। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দল তাঁকে টিকিট দেয়নি। বিধায়ক পদ খোয়ানোর পর নিয়মানুযায়ী বিধানসভার ফ্যামিলি পেনশন ও অন্যান্য চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধার জন্য আবেদন করেন তিনি। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, শুধু সামাজিক মতে বিয়ের কোনো আইনি মান্যতা নেই সরকারি নথিতে। ফ্যামিলি পেনশনের নমিনেশন বা অন্যান্য সুবিধা পেতে গেলে ম্যারেজ সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। ৩৯ বছর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার পর ২০১১ সালে অবসর নেন তিনি। বর্তমানে বিধায়ক পেনশনই তাঁর সংসার চালানোর অন্যতম ভরসা। ফলে বাধ্য হয়েই এই বয়সে এসে রেজিস্ট্রি বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

–

–

–

–

–
–
–
