বিরোধী দলনেতাকে স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে এখনও বিধানসভায় (Assembly) জট কাটেনি। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি না দেওয়ায় খোলা হয়নি বিরোধী দলনেতার ঘর। প্রতিবাদে শুক্রবার বিধানসভার ভিতরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ধর্নায় বসেন তৃণমূলের বিধায়করা (TMC MLA)। বিরোধী দলনেতার বন্ধ ঘরের সামনে লবিতে বলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandev Baneerjee), বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh), নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়-সহ তৃণমূলের ১৮ বিধায়ক। 
বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেবকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য রেজোল্যুশন চান বিধানসভার (Assembly) অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু। কারণ, প্রথম যে চিঠি তৃণমূলের তরফ থেকে পাঠানো হয়েছিল, সেটি নিয়ে টালবাহানা করে সরকার পক্ষ। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বৈঠকের পরে বিধানসভায় রেজোল্যুশন জমা দেয় তৃণমূল। তৃণমূল সূত্রে খবর, নতুন চিঠিতে জয়ী তৃণমূল বিধায়কদের মধ্যে ৭০ জনের স্বাক্ষর রয়েছে। তবে এই নতুন নথি জমা দেওয়ার পরেও বিরোধী দলের জন্য নির্দিষ্ট ঘরটি খুলে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এর পর বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘর খোলা না হলে, বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দেন তৃণমূল বিধায়করা। ১২ টা থেকে এক ঘণ্টা সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়। সময় পেরোতেই বিক্ষোভে সামিল হন তৃণমূল কংগ্রেসের ১৮ বিধায়ক।

দীর্ঘ সংসদীয় জীবনের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে ক্ষোভ উগরে দেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তথা তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বলেন, “আজকে হয়তো আপনাদের মনে হতে পারে আমরা সংখ্যায় মাত্র ৮০ জন। কিন্তু এই ৮০ জন যদি একসঙ্গে বিধানসভার অন্দরে ও বাইরে আওয়াজ তুলতে পারে, তবে অনেক কিছুই ঘটে যেতে পারে।“ এর পরেই শোভনদেব বলেন, “আমি দীর্ঘ বছর বিরোধী দলে রাজনীতি করেছি, আবার গত পনেরো বছর শাসকদলেও ছিলাম। কিন্তু সংসদীয় গণতন্ত্রে এমন নজিরবিহীন ও অনভিপ্রেত অবস্থার সম্মুখীন আমাকে কোনওদিন হতে হয়নি।“ 

সরকারের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, “বিধানসভার সচিব কীভাবে সংবাদমাধ্যমের কাছে এই ধরনের অবস্থান ব্যক্ত করছেন? এতদিনের সংসদীয় রাজনীতিতে এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি। সচিবই কি তবে অধিবেশন পরিচালনা করবেন? অধ্যক্ষের ভূমিকাই বা কী?“ বিজেপিকে নিশানা করে প্রাক্তন স্পিকার বলেন, “আপনারা তো অধ্যক্ষ নির্বাচনের দিন বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কেই আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, যাতে তিনি সৌজন্য মেনে নবনির্বাচিত অধ্যক্ষকে চেয়ার পর্যন্ত এগিয়ে দিতে পারেন। তার মানে সেদিন তো আপনারা তাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মান্যতা দিয়েছিলেন, তাহলে আজকে হঠাৎ কী এমন বদলে গেল?“
আরও খবর: পুলিশ কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবে যে কে অনুপ্রবেশকারী? প্রশ্ন তুলে সরব হলেন সাকেত

বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, এটি দলের কোনও পূর্বঘোষিত কর্মসূচি নয়। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় গতকালই জানিয়েছিলেন যে সচিবালয় যে অতিরিক্ত তথ্য ও রেজোলিউশন চেয়েছিল, তা জমা দেওয়া হয়েছে। ফলে সকলেই আশাবাদী ছিলেন যে আজ হয়তো বিরোধী দলনেতার ঘরটি খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু ঘর বন্ধ দেখে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদে শামিল হন বিধায়করা।

–

–

–
–
–
