Site Logo

'গোপন অ্যালগরিদম', ১৫০ কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধানের চেয়ে বেশি নাম বাদ! বাংলার ভোট নিয়ে কমিশনকে নিশানা অঞ্জলির

EBBS DESK·
'গোপন অ্যালগরিদম', ১৫০ কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধানের চেয়ে বেশি নাম বাদ! বাংলার ভোট নিয়ে কমিশনকে নিশানা অঞ্জলির

বাংলায় নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, গণনাকেন্দ্র থেকে তৃণমূলের এজেন্টদের (TMC Agent) জোর করে সরিয়ে দেওয়া, সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলা এবং EVM-এ কারচুপি। দলের তরফ থেকে গণনা কেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা ফুটেজ প্রকাশ্যের আনার দাবি জানানো হয়। তৃণমূল সুপ্রিমোর এই অভিযোগ ও দাবিকেই পরোক্ষে সমর্থন জানালেন সমাজকর্মী তথা RTI কর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ (Anjali Bharadwaj)। সম্প্রতি দিল্লির প্রেস ক্লাবের এক আলোচনা সভায় নির্বাচন কমিশনকে তীব্র কটাক্ষ করে অঞ্জলিকে বলেন, রহস্যময় 'গোপন অ্যালগরিদম'-এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ নাগরিককে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিস্ফোরক অভিযোগ করে তিনি বলেন, মোট ২৯৪টি আসনের অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ ১৫০টি আসনে, জয়ের ব্যবধানের চেয়ে নাম বাদ দেওয়ার সংখ্যা বেশি ছিল।

Sponsored

Sranchi In Article

অঞ্জলি ভরদ্বাজের (Anjali Bharadwaj) কথায়, ভোটার লিস্ট স্বচ্ছ্ব করার বিষয়ে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু যেভাবে বিহার নির্বাচনের আগে হঠাৎ করে SIR করা হয়। সেখানে কোটির বেশি লোকের নাম বাদ গিয়েছে। এর পরে বাংলার নির্বাচনের আগে সেখানে বিশেষ নিবীড় সংশোধনীতে রহস্যময় 'গোপন অ্যালগরিদম'-এর মাধ্যমে প্রথমেই মোট ৯১ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। কী সেই 'অ্যালগরিদম' প্রকাশ করতে অস্বীকার করে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। যৌক্তিক অসঙ্গতি চিহ্নিত করার পর ২৭ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়। যাঁদের পাসপোর্ট এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি ছিল, তাঁদের অন্যায়ভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। যার জেরে সুপ্রিম কোর্ট নিজের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে অন্যায়ভাবে নাম বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে আবেদনগুলি নিষ্পত্তির জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নেতৃত্বে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। তড়িঘড়ি করে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কারণে, ২৭ লক্ষেরও বেশি আবেদন অমীমাংসিত থেকে যায়। ট্রাইব্যুনাল সেগুলির শুনানি করতে পারেনি, যার ফলে এই ভোটাররা নির্বাচন থেকে বাদ পড়েন।

অঞ্জলির কথায়, বাস্তব ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও মারাত্মক। পশ্চিমবঙ্গের মোট ২৯৪টি আসনের অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ ১৫০টি আসনে, জয়ের ব্যবধানের চেয়ে নাম বাদ দেওয়ার সংখ্যা বেশি ছিল। নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে ওই সমাজকর্মী বলেন, এই বিশেষ নিবীড় সংশোধনী কার নির্দেশে হয়। প্রথম কমিশন বলে, তাঁরা নির্দেশ দেয়নি। অঞ্জলি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে কি এই নির্দেশ বিজেপি পার্টি অফিস তেকে গিয়েছিল। পরে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, তিনি হোয়াটস অ্যাপে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এর পরেই ভোটগণনায় কারচুপির তৃণমূলের অভিযোগেই কার্যত সিলমোহর দেন অঞ্জলি ভরদ্বাজ। তিনি বলেন, গোপনীয়তাকে ঢাল করে ভোটগণনা কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন। অথচ ওই সিসি ক্যামেরা নাগরিকদের করের টাকায়  কেনা।  এই অপরিহার্য নথিগুলি প্রকাশ করতে অস্বীকার করে, কমিশন সন্দেহের ছায়াকে বাড়তে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, সত্যিই কি পশ্চিমবঙ্গের ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করতে পেরেছে? যদি না হয়, তাহলে দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কী-গুরুতর প্রশ্ন তোলেন সমাজকর্মী অঞ্জলি।

-

-

-

-

-

-

Sponsored

Merlin In Article

Sponsored

Shyam Sundar In Article

Sponsored

Camelia In Article

Sponsored

Techno India In Article

Sponsored

Probe In Article

Related Articles

More from শিরোনাম

View All →