কলকাতা হাইকোর্টের সবুজ সংকেত মিলতেই আগামী ১৯ জুন কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশন ডাকলেন চেয়ারপার্সন মালা রায়। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আদালতের নির্দেশ ও পুর-আইন মেনেই ১৯ তারিখ বেলা দুটো নাগাদ চলতি মাসের এই অধিবেশন বসবে। রাজ্যে সাম্প্রতিক পালাবদলের পর থেকে যেভাবে পুরসভার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা চলছিল, হাইকোর্টের এই রায়ে তাতে বড়সড় ধাক্কা লাগল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২২ মে চেয়ারপার্সনকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে আচমকাই পুরসভার মাসিক অধিবেশন বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, নতুন বিজেপি সরকার নাগরিক পরিষেবায় ব্যাঘাত ঘটিয়ে পুর-বোর্ড ভেঙে দেওয়ার যে চেষ্টা চালাচ্ছে, এটি ছিল তারই অংশ। এই একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ তথা কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়। তাঁর দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য ও বিশ্বরূপ চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পুর-কমিশনার কিংবা পুর-সচিব নন, পুর-আইন অনুযায়ী মাসিক অধিবেশন সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একচ্ছত্র অধিকার একমাত্র চেয়ারপার্সনেরই রয়েছে।

আদালতের এই রায়কে নিজেদের নৈতিক জয় হিসেবে দেখছেন মালা রায়। এদিন তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পুরসভার অধিবেশন বানচাল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে চেয়ারপার্সনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আদালতের এই নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে পাঠানো শুরু হয়েছে এবং ১৯ জুনের আগামী অধিবেশনের প্রস্তুতি নিয়ে পুর-সচিবকে সুনির্দিষ্ট চিঠি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্য সরকারের অঙ্গুলিহেলনে পুর-কমিশনারকে দিয়ে সমান্তরাল প্রশাসন চালানোর যে চেষ্টা হচ্ছিল, আদালতের এই রায়ের পর তাতে আইনি রাশ টানা সম্ভব হল।

আরও পড়ুন – ১৫ লক্ষ কোটি টাকার কারচুপি! সেবির কোপে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সংস্থা রাজেশ এক্সপোর্টস

_

_

_

_
_
_
_
