Thursday, June 18, 2026

বহিষ্কৃত ঋতব্রত কেন বিরোধী দলনেতা, তৃণমূলের মামলার রায় ঘোষণা আজ 

Date:

Share post:

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হওয়ার পর বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করেছে দল। বহিষ্কৃত বিধায়ক কী করে বিরোধী দলনেতা হলেন, তৃণমূলের দায়ের করা মামলায় স্পিকারের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন করেহাইকোর্ট। কেন দলের প্রথম চিঠি কে গুরুত্ব না দিয়ে বিদ্রোহী বিধায়কদের দ্বিতীয় চিঠিকে গুরুত্ব দেওয়া হল তা নিয়েও স্পষ্ট কোনও উত্তর দিতে পারেননি বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোস (Rathindra Bose)। বালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের (Sovandeb Chatterjee) মামলার শুনানি ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। আজ রায় ঘোষণা। কার হাতে থাকবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতার ক্ষমতা, উত্তর মিলবে আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই।

ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেছে শাসকদলের ক্ষমতা হারিয়ে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। আশিটি আসনে জয় পায় ঘাসফুল শিবির। এরপরই শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেন দলের চেয়ারপারসন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। অধ্যক্ষকে চিঠি দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই হঠাৎ করে ‘বিদ্রোহী’ হয়ে ওঠেন মমতার ছবি ব্যবহার করে নির্বাচনে জয়ী ২ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) ও সন্দীপন সাহা (Sandipan Saha)। সই জালের অভিযোগ করে দুই নেতা বিধানসভায় নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করে ৬০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি জমা দেন। তৃণমূলের প্রথম চিঠি কে গুরুত্ব না দিয়ে বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের চিঠির ভিত্তিতে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেন স্পিকার। আদালতে মামলা হতেই কীসের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল তা জানতে চান বিচারপতি কৃষ্ণা রাও (Justice Krishna Rao)। তাঁর মন্তব্য, ‘‘বিধায়কদের স্বাক্ষর জাল কি না, সে প্রশ্নে যাচ্ছি না। কিন্তু যিনি প্রথম আবেদন করেছিলেন, তাঁকে শুনানির সুযোগ না দিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলা যায় কি না, সেটা বড় প্রশ্ন। প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি মানা জরুরি। আগে তো ৭৮ জনের সমর্থনের দাবি ছিল। সেই দাবির সত্যতা যাচাই কোথায়? যদি স্পিকার ১ জুন বহিষ্কারের চিঠি পেয়ে থাকেন, তা হলে সেই বহিষ্কৃত ব্যক্তিকেই কী ভাবে তিনি বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নিলেন?’’

শোভনদেবের পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) আদালতকে জানান, বিরোধী দলনেতা কে হবেন, তা রাজনৈতিক দল ঠিক করে। বিধায়ক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা সেখানে বিবেচ্য হতে পারে না। এ ক্ষেত্রে মমতা-সহ দলীয় নেতৃত্ব শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা মনোনীত করেছিলেন। স্পিকার কাজ ছিল সেই সিদ্ধান্তকেই কার্যকর করা। কিন্তু সেটা কার্যকর হয়নি। বহিষ্কৃত কাউকে বিরোধী দলনেতা করা আইনসঙ্গত নয় বলেও দাবি করেন তৃণমূলের সাংসদ-আইনজীবী। আজ আদালতের রায়ের দিকে তাকিয়ে বাংলার রাজনৈতিক মহল।

 

Related articles

বুদ্ধদেবের মৃত্যুর ৫ বছর পর নতুন জীবন শুরু স্ত্রী সোহিনীর 

৫৯ বছর বয়সী পরিচালকের প্রেমে পড়েছিলেন ২২ বছরের তরুণী, অসমবয়সী দাম্পত্য নিয়ে কমচর্চা হয়নি টলিউডে (Tollywood)। তবু কোনওদিন...

লড়াই এবার প্রকাশ্যে, ক্রীড়ামন্ত্রীকে অভিষেকের পাল্টা চিঠি সৌরভের

  বুধবার ইন্দ্রনীল খাঁ-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়(Sourav Ganguly)। বুধবার নব মহাকরণে ক্রীড়া দফতরে যান সৌরভ,...

আচমকা মমতার ২০ বছরের পিএসও বদল! বিস্ফোরক অভিযোগ ডেরেক ও’ব্রায়েনের

বুধবার কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে তৈরি হল এক নজিরবিহীন ও চূড়ান্ত নাটকীয় পরিস্থিতি। খোদ তৃণমূল...

যোগ দিবসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক কেন? রেড রোড বন্ধ নিয়েও মামলা হাই কোর্টে

২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহল। ওই দিন কলকাতার রেড রোডে...