ছাত্র স্কুলে সঠিক আচরণ না করাই শিক্ষক তাঁকে শাসন করেছিলেন। এতেই ক্ষুব্ধ পড়ুয়ার বাড়ির লোকেরা মামলা দায়ের করেন মাথাভাঙ্গা হাই স্কুলের (Mathabhanga High School) মাস্টারমশাই তন্ময় চক্রবর্তী (Tanmoy Chakraborty) বিরুদ্ধে। মামলা ওঠে কোর্টে, জামিন পান শিক্ষক। এরপর ওই স্কুলেরই অন্যান্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক- অভিভাবকরা সকলে মিলে ফুলমালায় বরণ করে নিলেন তন্ময়কে। তাঁদের সকলের বক্তব্য, শাসন করা অপরাধ নয়। বরং এই ধরনের ঘটনাকে যাঁরা কোর্ট পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় তাঁরাই সমাজে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ককে নষ্ট করছেন। একই পর্যবেক্ষণ আদালতেরও।

সম্প্রতি মাথাভাঙ্গা হাইস্কুলে ছাত্রকে কেন শাসন করা হয়েছিল সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অভিভাবক।শিক্ষক তন্ময় চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। ঘটনাকে ঘিরে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়ায়। রীতিমত কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয় শিক্ষককে। কিন্তু আদালতে শুনানি চলাকালীন কার্যত শিক্ষকের পক্ষ নিলেন বিচারক।মাথাভাঙ্গা আদালতে বিচারক শিবম মিশ্র (Shivam Mishra) অভিভাবকের অভিযোগপত্র দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সাফ জানান, “এই ধরনের অভিযোগ গুরু এবং শিষ্যের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। শিক্ষকেরা শাসন করেন বলেই আমরা আজ এই জায়গায় পৌঁছেছি।” এরপর ‘অভিযুক্ত’ শিক্ষকের জামিন মঞ্জুর হয়ে যায়।

এই রায় ঘোষণার পরই আদালত চত্বরের বাইরে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা তন্ময়কে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানায়। পাশাপাশি তাঁর গ্রেফতারির বিরোধিতা করে শুক্রবার স্কুল প্রাঙ্গণেই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। যেখানে বিক্ষোভকারীদের দাবি, শাসন এবং নির্যাতনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। শিক্ষকদের ন্যূনতম শাসনের অধিকারকে অপরাধ হিসেবে দেখানো হলে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পড়ুয়া, স্কুলের সতীর্থ এবং বাকি অভিভাবকদের ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তন্ময়। তিনি বলেন, “ এত বছর ধরে শিক্ষকতা করছি কোনও দিনও এমন অবস্থার সম্মুখীন আমি হয়নি। বরাবরই চেষ্টা করে গেছি ছাত্র ছাত্রীদের সুশিক্ষা দেওয়ার। কিন্তু এই অভিযোগ আমাকে এতটাই হতাশা করেছিল যে কিছুদিনের মধ্যে আমি ভেঙে পড়েছিলাম। তবে আজ বিচারকের রায় পেয়ে এবং পড়ুয়াদের সমর্থন পেয়ে আমি খুবই খুশি। আগামী দিনেও আমি নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা করে যেতে চাই।”

–

–

–

–

–
–
