চলতি বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) জর কাড়ছেন গোলরক্ষকরা। বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র ইরান(Iran) প্লে অফের আশা জিইয়ে রেখেছ। বেলজিয়াম ম্যাচের নায়ক ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দের(Alireza Beiranvand )জীবন রূপকথাকেও হার মানাবে।

লুকাকু, কেভিন দ্য ব্রুইনাদের একের পর এক আক্রমণ রুখে দিলেন ইরানের গোলরক্ষক। সাতটি সেভ করেন ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার আলিরেজা। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে তিনিই ম্যাচের সেরা। কেপ ভার্দের ভোজিনহা ও কুরাসাওয়ের এলয় রুমের পর এবার আলোচনায় ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজা(Alireza Beiranvand )

লোরেস্তান প্রদেশের এক যাযাবর পরিবারে জন্ম আলিরেজা বেইরানভান্দের। ছোটবেলায় পাহাড়ে পাহাড়ে ভেড়া চরানোই ছিল তাঁর নিত্যদিনের কাজ। ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন ছিল, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথ ছিল অত্যন্ত কঠিন। বার পার পেশা বদল করতে হয়েছে তাঁকে। পেট ভরানোর জন্য ঝাড়ুদারের কাজ করেছেন। কখনও গাড়ি ধোয়া, টায়ার পরিষ্কারের কাজ। কিন্তু খেলার প্রতি প্যাশন হারাননি। অবশেষে ফুটবলই তাঁকে বিশ্ব মঞ্চে স্বীকৃতি দিল।

ভিসা জটিলতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বেস ক্যাম্প করতে পারেনি ইরান। মেক্সিকোতে অনুশীলন করে ম্যাচের আগে আমেরিকা ঢুকতে হচ্ছে ইরানের দলকে। বেলজিয়াম ম্যাচের পর লস অ্যাঞ্জেলসের স্টেডিয়ামের সাজঘরে নিজেদের বার্তা লিখে রেখে গেল ইরান দল। সেখানে লেখা, ‘হাজার বছরের প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের সভ্য ইরান। আমাদের আত্মা আজও জীবন্ত ও অটুট। আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ, লস অ্যাঞ্জেলেস। আমরা গর্ব নিয়ে এসেছিলাম। সম্মানের সঙ্গে লড়েছি। মর্যাদা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি।’

এর পাশাপাশি লেখা হয়েছে, ‘এই ১৮০ মিনিটে যাঁরা সব কিছু দিয়ে ইরানকে সমর্থন করেছেন, তাদের ধন্যবাদ। সকল জাতির মধ্যে শান্তি, সম্মান ও বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠিত হোক।’ লকার রুমে রাখা এই চিরকুটে #168 এবং #Minab হ্যাশট্যাগও লেখা হয়েছে।

–

–

–
–
–
